দেশজুড়ে

ঘোষণা দিয়েই প্রকাশ্যে ব্যালটে সিল মারা হলো

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের সামনে অনেকটা ঘোষণা দিয়েই ভোট কেন্দ্র দখল করে শনিবার আ.লীগ সমর্থিত প্রার্থীর আনারস প্রতীকে সিল মেরেছে দলীয় ক্যাডার বাহিনী। এছাড়াও এজেন্ট ও কর্মী সমর্থকদের মারধর করে বের করে দেয়া হয় কেন্দ্র থেকে। জালভোট নয় একেক জন শত শত সিল মেরেছেন প্রকাশ্যে। এসময় সাধারণ ভোটারদের অনেকেই কেন্দ্রে প্রবেশের সাহস পাননি। এমনই সীমাহীন অনিয়মের অভিযোগ এনে দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাচন বর্জন করেছে বিএনপি। স্থানীয় সাংসদ মেজর জেনারেল ( অব.) সুবিদ আলী  ভূইয়ার ছেলে ও আ.লীগ সমর্থিত প্রার্থী মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এনে দুপুর সাড়ে ১২টায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হাজী আবুল হাসেম সরকারের গৌরীপুরের বাসভবনে এক জরুরী সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মাসুদ রেজা মিন্টু। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্ট মাসুদ রেজা মিন্টুসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, সকাল থেকেই ৯৫টি ভোট কেন্দ্রের অধিকাংশ কেন্দ্র দখল করে আ.লীগের প্রার্থী সুমনের আনারস প্রতীকে দলীয় ক্যাডার বাহিনী। প্রকাশ্যেই তারা সিল মারেন। এতে ভয়ে মুহূর্তেই ভোটকেন্দ্রগুলো ভোটার শূণ্য হয়ে পড়ে। এসময় তারা বিএনপি প্রার্থী হাজী আবুল হাসেম সরকারের এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে জোরপূর্বক বের করে দেন। সরকার দলীয় ক্যাডাররা জোরপূর্বক ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রকাশ্যে ব্যাপকভাবে আনারস প্রতীকে সিল মারতে থাকলে এসময় বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলেও সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা এগিয়ে আসেনি বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আবুল হাশেমের নির্বাচন সমন্বয়কারী হাজী মোস্তাক আহমেদ ও উত্তর জেলা যুবদলের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মোশারফ হোসেনসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে একই অভিযোগে পৃথকভাবে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপি সমর্থিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ভিপি শাহআলম ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফরিদা ইয়াছমিন। এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেও আ.লীগের পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৪ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছিলেন। তবে একাধিক মামলা থাকার কারণে বিএনপির প্রার্থী আবুল হাসেম সরকার আত্মগোপনে থাকা অবস্থায়ই নির্বাচনে অংশ নেন বলে তার কর্মী সমর্থকরা জানিয়েছেন। উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভাসহ ৯৫টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ২ লাখ ৩৮হাজার ৫৪ জন। মো. কামাল উদ্দিন/এমজেড/আরআইপি