দেশজুড়ে

ডিসির কাছে স্কুলছাত্রীর অভিযোগ

জোরপূর্বক বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করায় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে মা-বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে এক স্কুলছাত্রী। একই সঙ্গে বিয়ে বন্ধে সাহায্য চেয়েছে ওই শিক্ষার্থী।

বুধবার ভোলা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা আক্তার এ অভিযোগ করে। ফারজানা তার স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমার দেবের সাহায্য নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করে।

জেলা প্রশাসক মো. সেলিম উদ্দিন তাৎক্ষণিক ফারজানার বাবা মো. সিরাজকে ডেকে পাঠিয়ে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করার নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে সিরাজ উদ্দিন জানান, তিনি নির্মাণ কাজের শ্রমিক। তার পাঁচ মেয়ের মধ্যে ফারজানা বড়। তার পক্ষে লেখাপাড়ার ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়।

তিনি আরও জানান, তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মেয়েকে বিয়ে দেয়ার আয়োজন করে। গোপনে পরাণগঞ্জের এক মসজিদের ইমামের সঙ্গে ফারজানার কাবিন হয়েছে ১০ ফেব্রুয়ারি। বুধবার বরপক্ষ বাড়িতে আসার কথা ছিল।

জেলা প্রশাসক মো. সেলিম উদ্দিন জানান, ফারজানার পড়ালেখা চালিয়ে নেয়ার জন্য প্রতি মাসে বৃত্তি প্রদানে ইউএসএইডের পরিচালিত একটি উন্নয়ন সংস্থাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া নিজ তহবিল থেকে দুই হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে মাঠে নামেন বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা। মেয়ের বিয়ের কাজ সম্পন্ন করতে না পেরে স্বামীর বাড়ির ছেড়ে রাগে-দুঃখে বাবার বাড়ি চলে যান ফারজানার মা জান্নাতুল ফেরদৌস।

এএম/পিআর