দেশজুড়ে

সন্ধ্যা থেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছেন বরগুনার বাসিন্দারা

ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র প্রভাবে উত্তাল রয়েছে বঙ্গোপসাগর। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতায় উঠে গেছে বঙ্গোপসাগরের ঢেউ। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বরগুনায় আবারও শুরু হয়েছে থেমে থেমে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি।

অন্যদিকে বিকেল পর্যন্ত বরগুনার সব আশ্রয়কেন্দ্র ফাঁকা থাকলেও সন্ধ্যায় ৮ নম্বর মহাবিপদসংকেত জারি করার পর থেকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আসা শুরু করে বরগুনার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা।

অাশ্রয়প্রার্থীদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে জানা গেছে, প্রশাসন ও সিপিপি সদস্যদের পক্ষ থেকে সন্ধ্যার আগে উপকূলের মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বলা হলেও, রোজার কারণে ইফতারের আগে ঘর ছাড়েননি অধিকাংশ মানুষ। তবে সন্ধ্যার পর আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আসা শুরু করেন তারা।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ মোকাবেলায় জেলায় ৩৩৫টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৪৫টি মেডিকেল টিম। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছুটি বাতিলের পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবেলায় ৮৭ মে. টন জিআর চাল, নগদ দু’লাখ টাকা এবং ৩২ বান্ডিল ঢেউটিন মজুদ রাখা হয়েছে। এছাড়া আরও দুইশত মে. টন চাল, নগদ পাঁচ লাখ টাকা এবং তিনশ বান্ডিল ঢেউটিনের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

এছাড়াও পর্যাপ্ত শুকনা খাবার, ওষুধ, স্যালাইন মজুদ রাখা হয়েছে। খোলা হয়েছে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রল রুম। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বরগুনার দু’টি রুটে চলাচলরত ফেরি বন্ধ করে দিয়েছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। এছাড়াও নদী পাড়াপাড়ের জন্য সব খেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) বরগুনা সদর উপজেলার টিম লিডার মো. জাকির হোসেন মিরাজ বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি জেলার সব উপজেলার সিপিপি সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়া যাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বরগুনার জেলা প্রশাসক ড. মোহা. বশিরুল আলম বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ মোকাবেলা সবধরনের প্রস্ততি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন। এখনও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মাইকিং করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় এবং দুর্যোগপরবর্তী উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, রেড ক্রিসেন্ট, সিপিপি এবং ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সাইফুল ইসলাম মিরাজ/বিএ