দেশজুড়ে

বিনা নোটিশেই এক পরিবারকে উচ্ছেদের অভিযোগ

লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলায় বিনা নোটিশে এক অসহায় পরিবারের ঘরবাড়ি ভেঙে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বাউড়া ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

গত ২ দিন ধরে উচ্ছেদ হওয়া অসহায় ভূমিহীন পরিবারটি খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বাউড়া ইউনিয়নের সহকারী তহশিলদার সাজু মিয়া এই উচ্ছেদ অভিযান চালান।

তহশিল অফিসের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয় বলে তহশিল অফিসার সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে কোনো নোটিশ ছাড়াই অসহায় পরিবারটির ঘরবাড়ি ভেঙে দেয়া হয়।

জানা গেছে, পাটগ্রাম উপজেলার নবীনগর গ্রামের মৃত আব্দুল গফুর তফশীলভূক্ত এসএ ১ নং খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ৬৯২৬নং দাগে ২ একর ৫০ শতাংশ জমির মধ্যে তার বাবা ভূমিহীন মৃত টটে মাহামুদ ১৯৭৩ সালের বন্দোবস্ত অনুযায়ী ১ একর জমি সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত গ্রহণ করেন।

১৯৮৮-৯৯ সালের তৎকালীন এডিসি জেনারেল ১ একর জমি বন্দোবস্ত বাতিল করেন। ২০০০ সালে আব্দুল গফুর বন্দোবস্ত বাতিলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। জেলা সাব জজ দ্বিতীয় আদালত আব্দুল গফুরকে পুনরায় ১ একর জমি ভোগ দখলের নির্দেশ প্রদান করেন। ২০০১-০২ সালে লালমনিরহাট রাজস্ব বিভাগে আপিল করলে আদালত রায় পূনর্বহাল করেন।

নবীনগর গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য রহিদুল ইসলাম জানান, ওই বন্দোবস্ত ১ একর জমি ভোগ দখলের জন্য আদালত আমাদের রায় দিয়েছেন। হঠাৎ করে আমাদের না জানিয়ে ওই জমির উপরে থাকা বসতবাড়ি ভেঙে দিয়েছে।

মৃত আব্দুল গফুরের ছোট ভাইয়ের ছেলে প্রায় বিশ বছর যাবৎ ভূমিহীন আজিজার রহমান (৪৫) ওই বন্দোবস্তের ১ একর জমিতে বসবাস করে আসছেন। বাউড়া ইউনিয়নের সহকারী তহশিদার সাজু মিয়া ওই ১ একর জমি সরকারি উল্লেখ করে জমির উপর আজিজারের বসত ভিটায় বিনা নোটিশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।

আজিজার রহমানের স্ত্রী নাজমা বেগম জানান, কোনো কিছু না বলেই আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেয়া হয়েছে। আমরা খোলা আকাশের নিচে আছি।

তবে এ বিষয়ে বাউড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী তহশিলদার সাজু মিয়া জানান, আমরা উচ্ছেদ অভিযান চালাইনি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভাল জানেন।

এ ব্যাপারে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুর কুতুবুল আলম জানান, আমরা উচ্ছেদ অভিযান চালাইনি, তারা নিজেরাই ঘর ভেঙে ফেলেছে। আমি তহশিলদারকে ওই জমির মামলার বিষয়ে আদালতে যেতে বলেছি এবং আমার কাছে রিপোর্ট করতে বলেছি। জমির ওই অংশে আপাতত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি।

রবিউল হাসান/এফএ/জেআইএম