১০ মাস অতিবাহিত হলেও নতুন করে মাটি দিয়ে তৈরি করা হয়নি একটি সেতুর সংযোগ সড়ক ও নির্মিত হয়নি গত বছর বন্যায় ভেঙে যাওয়া ৩টি সেতু। ফলে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
ফুলছড়ি এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৩০ জুলাই রাতে ব্রক্ষ্মপুত্র নদের সিংড়িয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৬০ মিটার অংশ ভেঙে যায়। ফলে প্রবল পানির চাপে উপজেলার ৪টি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এরমধ্যে কালিরবাজার-সিংড়িয়া সড়কটির হঠাৎপাড়া এলাকায় একটি সেতুর দুইপাশের মাটি ভেঙে যায় এবং অন্য সেতুগুলো সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়।
সেতুগুলো হচ্ছে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কালিরবাজার-সিংড়িয়া সড়কের হঠাৎপাড়ায় দুইটি, কালিরবাজার-গুনভরি সড়কের পূর্ব ছালুয়ায় একটি ও হাজিরহাট-কালিরবাজার সড়কের হাজিরহাট এলাকায় একটি।
বর্তমানে ওইসব সেতুর স্থানে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করতে হচ্ছে। আর সেগুলোও নড়বড়ে হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতু পারাপারের সময় যাত্রী নামিয়ে কোনোমতে রিকশা-ভ্যান পারাপার করা হচ্ছে। পায়ে হেঁটে পারাপারেও মানুষ ভয় পাচ্ছেন। সেতুর উপর দিয়ে লোকজন ও রিকশা-ভ্যান চলাচল করলেও ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। বন্যায় বিধ্বস্ত হবার ১০ মাস অতিবাহিত হলেও এখনও শুরু হয়নি নতুন সেতু নির্মাণের কাজ।
সিংড়িয়া গ্রামের কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, ফুলছড়ি উপজেলা শহর থেকে মুদি দোকানসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল আনতে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বাঁশের সাঁকো নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায় ঝাঁকুনিতে মালামাল পড়ে গিয়ে ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে। তাই দ্রুত সেতু দুটি মেরামত না করলে আমরা আরও ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবো।
উদাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, সংযোগ সড়ক ও নতুন সেতু নির্মাণে এলজিইডিকে বারবার তাগাদা দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়েই বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে।
এসব বিষয়ে ফুলছড়ি এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আখতারুল আহসান শুক্রবার সকালে মুঠোফোনে জাগো নিউজকে বলেন, হঠাৎপাড়ায় দুইপাশের মাটি ভেঙে যাওয়া একটি সেতুর মাটি ভরাটের কাজ অনুমোদিত হয়েছে। দুইএকদিনের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে। এ ছাড়া অন্য আরও তিনটি সেতু নির্মাণে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয় ধরে একটি প্রকল্প এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ শুরু করা হবে।
রওশন আলম পাপুল/এমএএস/পিআর