বাগেরহাটের শরণখোলায় চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র তারিকুজ্জামান সোহাগ হত্যার দেড় বছর পর রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা সোহাগের আপন ফুফাতো ভাই।
মুক্তিপণ আদায়ের জন্য সোহাগকে অপহরণ করে ফুফাতো ভাই সাইদুল শিকদার (২৩)। পরে তাকে সুন্দরবনের গহীনে নিয়ে হত্যা করা হয়।
বাগেরহাটের সিআইডি পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে এসব কথা স্বীকার করেছেন ঘাতক সাইদুল। সোহাগ রায়েন্দা পাইলট হাইস্কুলের ১০ শ্রেণির ছাত্র ছিলো। মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সিআইডি।
মামলার বাদী সোহাগের মা তাসলিমা আক্তার জানান, ২০১৫ সালের ১৪ নভেম্বর বিকেলে ঢাকা যাওয়ার পথে অপহরণ করা হয় তার ছেলেকে। পরে সোহাগের মোবাইল নম্বর থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ে অপহণের খবর ও মুক্তিপণ হিসেবে নগদ ১০ লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণ দাবি করা হয়।
এসব না পেয়ে সুন্দরবনের গহীন নিয়ে হত্যা করা হয় সোহাগকে। অপহরণের চার দিন পর ১৮ নভেম্বর মৌয়ালরা পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর ফরেস্ট স্টেশন থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পশ্চিমে বনের ভেতর হাত-পা বাধা মরদেহ দেখতে পেয়ে বনবিভাগ ও পুলিশকে জানায়।
গত বছরের ১৯ নভেম্বর শরণখোলা থানায় অজ্ঞাতদের নামে একটি হত্যা মামলা করা হয়। পরবর্তীতে জানা যায়, সোহাগের আপন ফুফাতো ভাই উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামের ইউসুফ শিকদারের ছেলে সাইদুল শিকদার অপহরণ ও হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী। পরে মামলাটি থানা থেকে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।
বাদী আরও জানান, হত্যা মামলার অন্য আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাগেরহাট সিআইডি পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, হত্যাণ্ডের পর সাইদুল শিকদার ভারতে চলে যায়। কৌশলে তাকে ১ জুন বেনাপোল বর্ডার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু তদন্তের সার্থে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে কাছে সে সবকিছু স্বীকার করেছে। এ মামলার আসামি জাকির তালুকদার ও কবির বেপারী জামিনে মুক্ত রয়েছে। নিহতের পরিবারের নিরাপত্তায় সবকিছু করা হবে বলে জানান সিআইডির ওই কর্মকর্তা।
শওকত আলী বাবু/এএম/পিআর