দেশজুড়ে

টিসিবির পণ্য উত্তোলন করতে পারছে না পঞ্চগড়ের ডিলাররা

সুলভ মূল্যের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য পাচ্ছে না পঞ্চগড়ের নিম্ন আয়ের মানুষ। পবিত্র রমজানে সরকারিভাবে খোলাবাজারে টিসিবির মাধ্যমে সয়াবিন তেল, চিনি, মসুর ডাল এবং ছোলা বিক্রি কথা। বিশেষ করে এসব পণ্য জেলা সদরে ট্রাকে করে বিক্রি করার কথা টিসিবির। কিন্তু পঞ্চগড় জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় এসব পণ্য বিক্রি হয়নি। এতে রমজানে সাধারণ মানুষের কাছে সুলভমূল্যে পণ্য সরবরাহে সরকারের উদ্যোগ ব্যাহত হয়েছে। স্বল্প মূল্যে পণ্য ক্রয়ের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন অল্প আয়ের মানুষগুলো। তারা জানেন না, টিসিবি কি এবং কোথায় এর পণ্য বিক্রি হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, পঞ্চগড়ে জেলা সদরে ৪ জন এবং বাকি ৪ উপজেলায় ২ জন করে মোট ১২ টিসিবি ডিলার রয়েছে। এদের মধ্যে সদরে কেউ পণ্য তোলেননি। অন্য ৪ উপজেলার ৮ ডিলারের মধ্যে দুয়েকজন পণ্য উত্তোলন করলেও তারা কখন, কোথায় তা বিক্রি করেছেন জানা যায়নি।

স্থানীয় প্রশাসনের তেমন তদারকি না থাকায় কৌশলে প্রশাসনকে এড়িয়ে ডিলারদের কেউ কেউ রংপুরে পণ্য উত্তোলন করে সেখানেই বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শহরের ইসলামবাগ মহল্লার স্কুল শিক্ষক মন্তেসারুল্লাহ নশাদ বলেন, টেলিভিশনে দেখি দেশের বিভিন্ন এলাকায় কম দামে টিসিবির পণ্য বিক্রি হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষজন উৎসাহ নিয়ে কিনছেন। আমাদের এখানে টিসিবি আছে কি না আমরা জানিনা। আমরা কোথাও এই পণ্য বিক্রি করতে দেখিনা।

মসজিদপাড়া মহল্লার রিকশাচালক রফিকুল ইসলাম জানান, এর আগে খোলাবাজারের চাল ও ডাল কিনেছিলাম। সেখানে দামটা একটু কম পাওয়া যায়। কিন্তু এবার রমজানে আমাদের জন্য তেমন কোনো সুবিধা নেই।

টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় প্রশাসনের তদারকিতে টিসিবির মাধ্যমে খোলাবাজারে ৮৫ টাকায় সয়াবিন তেল, ৫৫ টাকায় চিনি, ৮০ টাকায় মসুরের ডাল, ৭০ টাকায় ছোলা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত ১৫ মে সারাদেশে ২য় দফায় টিসিবির এই কার্যক্রম শুরু হয়। টিসিবির ডিলার প্রতিটি পণ্য ৪০০ কেজি করে উত্তোলন করতে পারবেন। পণ্য উত্তোলনের পর স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়ে নির্দিষ্ট কোনো দৃশ্যমান স্থানে লাল কাপড়ে টিসিবির বরাদ্দকৃত পণ্যের মূল্য তালিকার ব্যানার টানিয়ে সেই পণ্য বিক্রি করবেন।

জেলা সদরে একটি ট্রাকে করে ভ্রাম্যমাণ পদ্ধতিতে মাসব্যাপি এসব পণ্য বিক্রির কথা। ওই ট্রাকে তিনদিন বিক্রির সমপরিমাণ পণ্য বরাদ্দ দিবে টিসিবি। পঞ্চগড়ের খুচরা বাজারে দাম বেশির কারণে খোলা বাজারের এসব পণ্যের চাহিদাও রয়েছে বেশি। তবে অদৃশ্য কারণে রমজানজুড়ে জেলার কোথাও স্বল্পমুল্যের এই পণ্য বিক্রি করতে কিংবা লাল কাপড়ে মূল্য তালিকার কোনো ব্যানার দেখা যায়নি। টিসিবির পণ্য বিক্রয়কারী কোনো ট্রাক নেই শহরে।

এদিকে স্থানীয় ডিলারদের অভিযোগ টিসিবি পণ্য উত্তোলনের স্থান রংপুর নির্ধারণ করায় পণ্য পরিবহনে অধিক ভাড়ার কারণে অনেকে পণ্য উত্তোলন করেনি। তাদের দাবি, বরাদ্দকৃত পণ্য উত্তোলনে ব্যাপক ঝামেলা পোহাতে হয়।

দেবীগঞ্জ উপজেলার টিসিবি ডিলার আক্তার হোসেন নিউটন বলেন, ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে রংপুর থেকে পণ্য আনতে হয়। আমরা কেজি প্রতি যে কমিশন পাই, তা ভাড়া দিতেই চলে যায়। এজন্য অনেকে পণ্য উত্তোলন করতে চান না। বরাদ্দ এবং পণ্য উত্তোলন পদ্ধতি সহজ করলে মানুষ এই সুফল পেতে পারে।

টিসিবি রংপুর এর উপ-ঊর্ধ্বতন কার্যনির্বাহী মো. মেশকাত আলম বলেন, ডিলারদের রমজান উপলক্ষে টিসিবির ২য় বরাদ্দের পণ্য প্রদান করা হয়েছে। এই বরাদ্দ থেকে পঞ্চগড়ের ৪ জন ডিলার পণ্য উত্তোলন করেছেন। জেলা শহরে একটি ট্রাক সেলের বরাদ্দ রয়েছে। কিন্ত্র ট্রাকের জন্য পণ্য কেউ নেননি। এই বরাদ্দ ১৮ জুন পর্যন্ত দেয়া যাবে। অন্যরা কেন বরাদ্দ নেয়নি তা জানা নেই।

জেলা প্রশাসক অমল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, পঞ্চগড়ে ১২ জন টিসিবি ডিলার রয়েছে। এদের মধ্যে দেবীগঞ্জ উপজেলার একজন পণ্য উত্তোলন করেছেন।

তিনি বলেন, আমার জানামতে, সদরের একজন ডিলার পণ্য উত্তোলনের জন্য রংপুর গেলেও বিলম্বের কারণে তিনি পণ্য উত্তোলন করতে পারেননি। তাছাড়া কোনো ডিলার পণ্য উত্তোলন করেছেন, কিন্তু খোলাবাজারের বিক্রি করছেন না, এমন অভিযোগ পেলে আমরা তার লাইসেন্স বাতিলের জন্য সুপারিশ করবো। পবিত্র রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে বলে দাবি করেন জেলা প্রশাসক।

এমএএস/জেআইএম