দেশজুড়ে

রাঙামাটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৫

নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বর্ষণের পর পাহাড়ধসে রাঙ্গামাটি শহর, কাপ্তাই এবং কাউখালীসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ৪৫ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। এখনও বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার অভিযান চলছে। নিহতদের মধ্যে দুই সেনা কর্মকর্তাসহ ছয় সদস্য রয়েছেন।মঙ্গলবার সকালে জেলার বিভিন্ন স্থানে এ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। রাঙামাটি শহরের রিজার্ভবাজার, ভেদভেদী, শিমুলতলী, মোনঘর, রাঙামাটি ও মানিকছড়িসহ বিভিন্ন স্থানে ২৫ জন, কাউখালীর বেতবুনিয়ায় চারজন, ঘিলাছড়িতে তিনজন, কাশখালীতে তিনজন এবং কাপ্তাই রাইখালীর কারিগর পাড়ায় চারজন নিহত হয়েছেন।

মানিকছড়িতে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে পাহাড় থেকে ধসে পড়া মাটি অপসারণের সময় ছয় সেনা সদস্য নিহত হন। তারা হলেন- মেজর মাহফুজ, ক্যাপ্টেন তানভীর আহমেদ, সিপাহী আজিজ, শাহীন, ল্যান্সকর্পোরাল আজিজ ও সিপাহী মামুন।

তারা রাঙামাটি সেনা রিজিয়নে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন। তবে আইএসপিআর জানায়, পাহাড়ধসের ঘটনায় তাদের চার সদস্য নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দু’জন কর্মকর্তা রয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন একজন এবং আহত হয়েছেন ১০ জন। হতাহতদের পরিচয় জানায়নি আইএসপিআর। এদিন সকাল ১১টার দিকে হতাহত সেনা সদস্যরা মানিকছড়িতে রাস্তার ওপর ধসে পড়া মাটি অপসারণে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছিলেন। ওই সময় আকস্মিক পাশের একটি উঁচু পাহাড় ধসে পড়ে মাটিচাপা পড়েন তারা।

নিহতদের মধ্যে রুমা আক্তার (২৫), নুর আক্তার (৩), হাজেরা (৪০), সোনালি চাকমা (৩০), এক বছর বয়সী শিশু অমিয় কান্তি চাকমা, আইয়ুশ মল্লিক (২), চুমকি মল্লিক (২), লিটন মল্লিক (২৮), অজ্ঞাত (২২), মিন্টু ত্রিপুরা (৪৫), আবদুল আজিজ (৫৫), অজ্ঞাত (৩২), মিলি চাকমা (৫৫), ফেন্সি চাকমা (৪); কাউখালীর ফাতেমা বেগম (৬০), মনির হোসেন (২৫), মো. ইসহাক (৩০), দবির হোসেন (৮৪), খোদেজা বেগম (৬৫), অজিদা খাতুন (৬৫), মংকাচিং মারমা (৫২), আশেমা মারমা (৩৭), শ্যামা মারমা (১২), ক্যাচাচিং মারমা (৭), কুলসুমা বেগম (৬০), বৈশাখী চাকমা (১০) ও লায়লা বেগমের (২৮) মরদেহ উদ্ধার করে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

কাপ্তাই রাইখালীর কারিগর পাড়ায় নিহত চারজনের নাম তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এর আগের দিন সোমবার রাঙামাটি শহরের পুলিশ লাইন এলাকায় এক শিশু এবং কাপ্তাইয়ের নতুন বাজারে এক শিশু পাহাড়ের মাটিচাপায় নিহত হয়। এছাড়া কর্ণফুলী নদীতে পড়ে ইকবাল নামের এক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে, সোমবার রাত থেকে রাঙামাটি শহরের অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়া রাঙামাটির সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

জেলা প্রশাসন থেকে মোট ৪৫ জনের নিহতের তালিকা পাওয়া গেছে বলে জানান নেজারত ডেপুটি কালেক্টর তাপস দাশ।

রাঙামাটি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম বলেন, শহরসহ রাঙামাটির আশেপাশে বিভিন্ন জায়গায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন তারা। তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে জেলা প্রশাসন থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। এ জন্য শহরসহ বিভিন্ন স্থানে ১৬ আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। অনেকেই ইতোমধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

সুশীল প্রসাদ চাকমা/এএম/এমএআর/পিআর