কক্সবাজারের মহেশখালীতে ঈদুল ফিতরের দিনে ৫ ব্যক্তিকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে কক্সবাজার শহরের এক হোটেলের সম্মেলন কক্ষে লিখিত বক্তব্যে সাংবাদিকদের কাছে এমনটি অভিযোগ করেন গ্রেফতারদের পরিবারের সদস্যরা।
গ্রেফতার হাফেজ শফিউল আলমের স্ত্রী হুসনে আরা অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামী বড়ঘোনা নুরানী একাডেমির শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম। গত ইউপি নির্বাচন থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইদুলের সঙ্গে তার স্বামীর বিরোধ তৈরি হয়। এরই জেরে পরিবারের সদস্যদের দেখে নেয়ার হুমকি দিতেন সাইদুল। ঈদের দিন সকালে ঈদগাহ ময়দানে সামান্য তর্কাতর্কির রেশ ধরে শফিউলকে ফাঁসিয়েছেন প্রতিপক্ষ।
তিনি আরও বলেন, আমার বড় মেয়ে তাসনিম কক্সবাজার ইসলামিয়া মহিলা কামিল (মাস্টার্স) মাদরাসায় ফাজিল ১ম বর্ষে, দ্বিতীয় মেয়ে হাসনা শাপলাপুর মাদরাসায় ৫ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। ৩ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে আদহামকে নিয়ে আতঙ্ক ও অসহায়ত্বের মাঝে দিন কাটছে আমাদের।
গ্রেফতার শহিদ উল্লাহর স্ত্রী আমেনা খানম অভিযোগ করেন, কিছু লোক রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে তার স্বামীকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়েছেন। কারণ, তার স্বামী ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স’র জোনাল ইনচার্জ। রাজনৈতিকভাবে এলডিপির জেলা পর্যায়ের নেতা। ব্যক্তিগতভাবে কারও বিরোধ নেই। চাচার সম্পত্তিগত বিরোধ নিয়ে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, মামলার ৩ নম্বর আসামি আতাউর রহমান ঢাকায় দর্জি কাজ করেন। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসেন। মনজুর নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের বিরোধ রয়েছে। তিনি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। এরপরও অপরাজনীতির শিকার তিনি।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আতাউর রহমানের মা দিলুয়ারা বেগম। একইভাবে সাজানো মামলার শিকার হয়েছেন মো. হানিফ। ঘটনাস্থল থেকে তার বাড়ির দূরত্ব অন্তত ১০ কিলোমিটার।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আলতাফ হোসেন পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাকে অস্ত্র মামলার আসামি বানিয়েছেন। পৃথক জায়গা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হলেও জামায়াত নেতা জাকের হোসেনের বাড়িতে মিটিংকালে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ঘটনা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত বলে দাবি করেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সবাই। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ জুন মহেশখালীর শাপলাপুর মুকবেকী বুধারপাড়ার জাকের হোসেনের বসতবাড়ি থেকে অস্ত্রসহ পাঁচজনকে গ্রেফতারের ঘটনায় পৃথক দুইটি মামলা হয়। মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়। যাদের অধিকাংশ নিরীহ বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।
সায়ীদ আলমগীর/এএম/জেআইএম