দেশজুড়ে

আবারও স্কুল যাবে লাকী

নবম শ্রেণির ছাত্রী লাকীর বিয়ের অনুষ্ঠান পণ্ড করে দিয়েছে প্রশাসন। সোমবার দুপুরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার স্থলে গিয়ে টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তুষার আহমদ ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নুরুল আবছার এ বাল্য বিয়ে পণ্ড করে দেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর নয়াপাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী মনছুর আলমের মেয়ে শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী নাজমা আক্তার লাকীর (১৪) সঙ্গে পার্শ্ববর্তী উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মনখালী গ্রামের নুরুল বশরের ছেলে নুরুল আমিনের বিয়ে ঠিক করা হয়। সোমবার ছিল মেয়ে হস্তান্তরের ধার্য দিন। সে অনুযায়ী রোববার রাতে কনের বাড়িতে মেহেদী অনুষ্ঠানও সম্পন্ন হয়। সোমবার সকাল থেকে শুরু হয় মেজবান। মেজবান চলাকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তুষার আহমদের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের একটি টিম বিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বাল্য বিয়েটি বন্ধ করে দেয়।

শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমএ মনজুর বলেন, জেএসসির সার্টিফিকেট অনুযায়ী লাকীর জন্ম ২২ মার্চ ২০০৩ সালে। ৯ম শ্রেণির একটি মেয়ের বিয়ে হওয়া মানে শুধু তার ভবিষ্যৎ নষ্ট হওয়া নয় বিদ্যালয়ের পড়ালেখার পরিবেশও বিঘ্নিত হওয়া। এ বিয়ে বন্ধের ফলে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বাল্যবিয়ে সম্পর্কে আরও সচেতন হবে।

উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তুষার আহমদ বলেন, বাল্যবিয়ে বন্ধ করাকে অনেকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেন। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সবার ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব সরকারের। সেই হিসেবে বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করার উদ্যোগ থেমে নেই। এরপরও থেমে নেই বাল্যবিয়েও। ভব্যিষৎ চিন্তা করে আজকের বিয়ের কনেটি আইনিভাবে উপযুক্ত হলেই বরের বাড়ি নিয়ে যাক এটাই আমাদের চাওয়া। এ বিষয়টি উভয় পক্ষকে বোঝানোর পর তারা সম্মত হওয়ায় কাউকে সাজা দেয়া হয়নি। সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/এমএস