গত ৩ দিন ধরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে ঢাকা-সিলেট রেলপথের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার মুকুন্দপুর রেলওয়ে স্টেশন। পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন স্টেশন মাস্টারসহ কর্মরত ৭/৮ জন স্টাফ। এছাড়া স্টেশন বন্ধ থাকায় কোন সিগন্যাল না হওয়ায় দূরবর্তী স্টেশনের সিগন্যালেই ঢাকা-সিলেট রেলপথে চলাচল করছে ট্রেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে স্টেশন এলাকার একটি আম গাছ থেকে আম পেড়ে স্টেশনের স্টাফরা ভাগাভাগি করে নেন। এ ঘটনায় ওই দিন সন্ধ্যায় স্থানীয় কামালমুড়া গ্রামের শাহজাহান, মানিক, মিলন ও মুশফিকুরসহ অজ্ঞাত আরো ৭/৮ জন স্টেশন মাস্টারকে মারতে আসেন। এসময় স্টেশনের স্টাফরা পালিয়ে গিয়ে পার্শ্ববর্তী বিজিবি ক্যাম্পে গিয়ে আশ্রয় নেন।সূত্রে আরও জানা যায়, পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হুমায়ুন কবিরের নাম ভাঙিয়ে শাহজাহান, মিলন, মানিকরা দীর্ঘদিন ধরেই স্টেশন এলাকার গাছপালার সকল ফল, ফসল ভোগদখল করে আসছেন। পাশাপাশি জোরপূর্বক টিকেট নিয়ে যাওয়া এবং স্টেশনে আরো নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন ডিআইজির এই পরিচিতরা। তাদের এই অপতৎপরতার প্রতিবাদ করলেই স্টেশন স্টাফদের ওপর হামলা চালানো হয়।মুকুন্দপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার এস.এম হুমায়ুন কবির মুঠোফোনে জাগো নিউজকে জানান, গত ১৯ মে ডিআইজি হুমায়ূন কবিরের ছোট ভাইয়েরা তাদের দলবল নিয়ে স্টেশনে এসে হামলা চালান। এসময় তিনিসহ স্টেশনের বাকি স্টাফরা আত্মরক্ষার্থে স্টেশনের পার্শ্ববর্তী বিজিবি ক্যাম্পে গিয়ে আশ্রয় নেন। এ ঘটনার পর থেকে তারা কেউ আর স্টেশনে ঢোকার সাহস পাচ্ছেন না এবং স্টেশন তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।আখাউড়া রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াছিন ফারুক মুজামদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার তিনি মুকুন্দপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়েছিলেন। তবে এ ব্যাপারে তিনি এখনো পর্যন্ত লিখিত কোন অভিযোগ পাননি জানিয়ে বলেন, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।আজিজুল আলম সঞ্চয়/এমজেড/আরআইপি