দেশজুড়ে

অবশেষে মুক্তি পেলেন প্রাণ হরিদাস

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ৮০ বছরের সেই বৃদ্ধ প্রাণ হরিদাস অবশেষে কৃষি ব্যাংকের ঋণের দায় থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

ঋণের নামে ব্যাংক কর্মকর্তারা জোরপূর্বক তার বয়স্কভাতা থেকে টাকা কেটে রাখার আর সুযোগ নেই। তিনি এখন থেকে বয়স্ক ভাতার পুরোটাই নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন।

হোপ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন নামের একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান ঋণ মুক্তির জন্য ওই বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ায়।

রোববার দুপুরে কৃষক প্রাণ হরি দাস কৃষি ব্যাংক তোরাবগঞ্জ শাখার ঋণের দায় থেকে মুক্ত হন। এসময় ব্যাংকে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা।

শনিবার ‘কমলনগরে পাঁচ হাজার টাকা ঋণে ২২ হাজার পরিশোধ, মুক্তি মেলেনি বৃদ্ধের’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে হোফ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন নামের একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান প্রাণ হরি দাসের ঋণ পরিশোধে এগিয়ে আসে। তাকে ঋণের দায় থেকে মুক্ত করে। এসময় তাকে আরও কিছু টাকা চিকিৎসা ও খরচ করার জন্য দেয়া হয়।

সংগঠনের বাংলাদেশের সমন্বয়কারী সৈয়দ সাইফুল আলম শোভান জানান, সংবাদটি দেখে বৃদ্ধের অবশিষ্ট ঋণের দুই হাজার এবং চিকিৎসা ও খরচের জন্য আরও তিন হাজার টাকা প্রদান করেন।

এদিকে, ইউএনও মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা ও ব্যাংক ব্যবস্থাপক আবদুল কাইয়ুম এক হাজার করে আরও দুই আরও দুই হাজার টাকা বৃদ্ধকে দেন।

ঋণ মুক্তির পর কেমন লাগছে-প্রাণ হরির কাছে জানতে চাইলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ব্যাংক ঋণ থেকে আমি এ জীবনে মুক্তি পাবো, কখনও কল্পনাও করিনি। ইউএনও ও সাংবাদিকের সহযোগিতায় ঋণ থেকে মুক্ত হয়েছি।

কৃষি ব্যাংক তোরাবগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক আবদুল কাইয়ুম বৃদ্ধের ঋণ পরিশোধ হয়েছে বলে জানান এবং ঋণ মুক্তির টাকার রসিদ প্রদান করেন।

প্রাণ হরি দাস কমলনগর উপজেলা চর কাদিরা ইউনিয়নের মৃত কামিনী কুমার দাসের ছেলে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালে কৃষি ব্যাংক তোরাবগঞ্জ শাখা থেকে তিনি ৫ হাজার টাকা কৃষি ঋণ নেন। গত ৮ বছর ধরে ওই ঋণ পরিশোধের নামে ভাতা উত্তোলনের দিন উত্তোলিত বয়স্কভাতার টাকা থেকে ঋণের টাকা আদায় করতো ব্যাংক।

এভাবে ভাতা থেকে ২২ হাজার টাকা নিলেও আরও টাকা দাবি করে ব্যাংক কর্মকর্তারা।

অভাব-অসুখের কথা জানালেও গত ৭ জুলাই ব্যাংকে বয়স্কভাতার ৩ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার টাকা কেটে নেয় কর্মকর্তারা।

গত মঙ্গলবার দুপুরে অসুস্থ বৃদ্ধ কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের 'সেবা কক্ষে' গেলে ইউএনও মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা ব্যাংক ব্যবস্থাপকের কাছে বিষয়টি জানতে চান।

কাজল কায়েস/এমএএস/আরআইপি