মঙ্গলবার থেকে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম। জেলায় মোট ভোটারের সাড়ে ৩ ভাগ নতুন ছবিযুক্ত ভোটার এ তালিকায় স্থান পাবে। ইতোমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য সুপারভাইজারের কাছে তথ্য ফরম পৌঁছে দেয়া হয়েছে। তবে সব ধরনের অনিয়ম থেকে রক্ষা পেতে জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন মানুষকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন অফিসার মো. মোজাম্মেল হোসাইন।
তিনি বলেন, আজ থেকে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার জন্য উপজেলা পর্যায়ে তথ্য ফরম দেয়া হয়েছে। ৯ আগস্ট পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। পরে তিনটি ধাপে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকার কাজ শুরু হবে ২০ আগস্ট থেকে। শেষ হবে নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, আগের ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের ছবিযুক্ত ভোটার তালিকায় স্থান দিতে জেলায় আজ থেকে শুরু হয়েছে তথ্য সংগ্রহের কাজ। মোট ভোটারের শতকরা সাড়ে ৩ ভাগ নতুন ভোটার তালিকায় স্থান পাবে। এ হিসেবে জেলায় হালনাগাদ তালিকায় ৪৬ হাজার ৬৫৯ জন নতুন ভোটার যুক্ত হবেন।
জেলার ৮ উপজেলায় তথ্য সংগ্রহের জন্য ৯১টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৪৬ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ২১৯ জন সুপারভাইজার নিযুক্ত করা হয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জেলায় মোট ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৬৩২ জন ভোটারের সঙ্গে হালনাগাদ হতে যাওয়া নতুন ভোটার যুক্ত হবে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে আগামী ৯ আগস্ট পর্যন্ত। তিনধাপে এ কাজ সম্পন্ন করা হবে।
প্রথমধাপে ২০ আগস্ট মহেশখালীতে ৭ হাজার ৭৫০ জন, কুতুবদিয়ায় ২ হাজার ৮২৩ জন এবং টেকনাফে ৫ হাজার ৪৫ জন ভোটারের কাজ করা হবে।
নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দ্বিতীয় ধাপে চকরিয়ায় ৯ হাজার ৫শ জন, পেকুয়ায় ৩ হাজার ৬৪৮ জন এবং উখিয়ায় ৪ হাজার ১৪৫ জন ভোটার।
সর্বশেষ নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৮ হাজার ৪১৬ এবং রামু উপজেলায় ৫ হাজার ৩৩২ জনকে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকায় স্থান দেয়া হবে। এছাড়া হালনাগাদের পাশাপাশি মৃত ভোটারের তালিকার কার্যক্রমও চালিয়ে যাবে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
সুষ্ঠ, সুন্দর এবং নির্ভুল তথ্য নিশ্চিত করতে তথ্য সংগ্রহকারীরা প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। প্রতিবারের মতো এবারও রোহিঙ্গা ভোটার যেন অন্তর্ভুক্ত হতে না পারে সেদিকে বেশি নজর দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন অফিসার।
এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রিতিনিধি এবং এলাকার সচেতন মানুষদের নজর দিতে হবে। তারপরও যদি কেউ তথ্য পূরণ করে তা বিশেষ কমিটির সভায় বাতিল করা হবে।
জেলা নির্বাচন অফিসার মো. মোজাম্মেল হোসাইন জানান, রোহিঙ্গারা যেন ভোটার তালিকায় স্থান না পায় সেদিকটি আমরা কঠোরভাবে নজর দেব। তারপরও তথ্য সংগ্রহকারীর সুযোগ নিয়ে কেউ ফরম পূরণ করে তবে বিশেষ কমিটির সভায় তা বাতিল করা হবে।
তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে কাজ করার পর যদি তথ্য সংগ্রহের ফরম সংকট পড়ে তবে তাও দেখা হবে।
উল্লেখ্য, জেলায় বর্তমানে ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৬৩২ জন ভোটার রয়েছে।
সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/জেআইএম