দেশজুড়ে

স্ত্রীর ছোড়া গরম দুধে ঝলসে গেলেন স্বামী

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় স্ত্রীর ছোড়া গরম দুধে ঝলসে গেছে স্বামী মজমুল হকের (২৬) শরীর। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে আদিতমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনায় স্বামীর দায়ের করা মামলায় স্ত্রী সুফিয়া বেগমকে (২২) পলাশী গ্রাম থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আহত মজমুল উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের তালুক পলাশী গ্রামের মাজেদুল ইসলাম ওরফে মওলা বকসের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চার বছর আগে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা চাপারতল গ্রামের শরিফুল ইসলামের মেয়ে সুফিয়া বেগমের (২২) সঙ্গে উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের তালুক পলাশী গ্রামের মজমুল হকের বিয়ে হয়। এরপর মজমুল ও সুফিয়া দম্পতির কোল জুড়ে আসে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান। অভাবের সংসারে মজমুল হক অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ফলে প্রায়ই তিনি গভীর রাতে বাড়ি আসতেন। আর এ নিয়েই দীর্ঘদিন যাবত স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া লেগেই থাকত।

গত মঙ্গলবার রাতে মজমুল অটোরিকশা নিয়ে বাড়িতে ফিরেন। প্রচণ্ড গরম থাকায় বাড়ির পাশের একটি দোকানে বসে গল্প করছিলেন তারই বড় ভাবির সঙ্গে। বিষয়টি দেখে তার স্ত্রীর সন্দেহ হওয়ায় স্বামীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। এরপর সেখান থেকে বাড়িতে গিয়ে মজমুল তার স্ত্রীকে বিষয়টি বুঝানোর চেষ্টা চালান। কিন্তু স্ত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে চুলার ওপর থেকে গরম দুধ তার স্বামীর শরীরে ঢেলে দেন। এরপর এলাকাবাসী তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি করে। গরম দুধে মজমুলের শরীরের গলার উপরিভাগ ঝলসে যায়।

আদিতমারী উপজেলা হাসপাতালের সহকারী চিকিৎসক আব্দুস ছালাম শেখ জানান, গলার ও শরীরের কিছু অংশ গরম দুধ ঢেলে দেয়ার কারণে ঝলসে গেছে। পুরোপুরি সুস্থ হতে কিছুদিন সময় লাগবে।

এ ঘটনার পর মজমুল হক বৃহস্পতিবার তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। স্বামীর মামলায় পুলিশ তার স্ত্রী সুফিয়া বেগমকে গ্রেফতার করেছে।

আদিতমারী থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সহিদুল ইসলাম জানান, মামলা দায়েরের পর পরই পুলিশ সুফিয়া বেগমকে গ্রেফতার করেছে।

রবিউল হাসান/আরএআর/জেআইএম