দেশজুড়ে

তিস্তার ভাঙনে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার সকাল ৬টা থেকে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টের তিস্তা ব্যারাজে নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার নিচ (বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৪০ মিটার) দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে ৩০ বিঘা জমির ফসল ও ৭টি পরিবারের বসত ভিটা বিলীন হয়ে যায়।

বুধবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত তিস্তার পানি বিপদসীমার আরও ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। তিস্তার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র হচ্ছে তিস্তার উজানের ভাঙন।

বুধবার সকালে টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব খড়িবাড়ি গ্রামের মাটির বাঁধটি বিলীন হওয়ার ফলে ৩০ বিঘা জমির ফসল ও ৭টি পরিবারের বসত ভিটা বিলীন হয়ে যায়।

সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের নিয়ে জরুরি সভা করেছে টেপাখড়িবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন। এ সময় পূর্ব খড়িবাড়ি গ্রামটি রক্ষায় সবার সহযোগিতার পাশাপাশি বাঁশ ও বালুর বস্তা দিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করার আহ্বান জানান চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম।

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব খড়িবাড়িতে তিস্তার নদীর ডানতীরে তৈরি করা ২ কিলোমিটার মাটির বাঁধটি ইতোমধ্যে ৪০০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গ্রামটিতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

সরেজমিনে বুধবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, নদীর প্রবল স্রোতে ইতোমধ্যে পূর্ব খড়িবাড়ি ২ কিলোমিটার বাঁধের ৪০০ মিটার ভেঙে পূর্ব খড়িবাড়ি গ্রামে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

পূর্ব খড়িবাড়ি গ্রামের জিয়াউর রহমান জানান, মাটির বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার ফলে ৩টি গ্রাম বন্যার পানির তলিয়ে যাবে।

টেপাখড়িবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন জানান, জরুরি ভিত্তিতে বাঁধটি রক্ষা করতে না পারলে তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করলে ৩টি গ্রামের সহস্রাধিক পরিবার বন্যার কবলে পড়বে। বাঁধের ভেতরে কয়েকশ একর জমির ফসলের বন্যার পানিতে ব্যাপক ক্ষতি হবে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজার রহমান বলেন, তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বুধবার সকাল ৬টায় বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকেল ৩টা তা আরও ১৫ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জাহেদুল ইসলাম/এএম/জেআইএম