গাজীপুরের টঙ্গীতে হাতকড়াসহ পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া হত্যা মামলার আসামি জামাল হোসেনকে (৩৫) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে টঙ্গীর বাস্তুহারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানকালে পুলিশের সঙ্গে জামাল বাহিনীর গোলাগুলির সময় জামাল গুলিবিদ্ধ হন।এদিকে, এ ঘটনায় টঙ্গী থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলামসহ ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, টঙ্গী থানার সেকেন্ড অফিসার হাসানুজ্জামান, এএসআই ছিদ্দিকুর রহমান ও মাহবুবুর রহমান।টঙ্গী থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, জামালসহ তার কয়েক সঙ্গী বাস্তুহারার ৫ নং ব্লকেরর একটি বাড়িতে অবস্থান করছে এমন খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জামাল ও তার সঙ্গীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ও ককটেল ছুঁড়ে পালাতে থাকে। এসময় পুলিশও পাল্টা গুলি করে। এক পর্যায়ে গুলিবিদ্ধ জামাল ওই বাড়ির ছাদ থেকে লাফিয়ে পাশের বাড়ির টিনের চালে পড়ে জখম হয়। অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি আরো জানান, জামাল বাহিনীর প্রধান ও পুলিশের সোর্স রাসেল হত্যা মামলার আসামি জামালকে গত রোববার বাস্তহারা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশের ভ্যানে উঠানো হয়। এক পর্যায়ে সে কৌশলে হাতকড়াসহ পালিয়ে যায়। পরে ওই হাতকড়াটি কাটা অবস্থায় ৫নং ব্লকের কবরখানা মসজিদের জানালার পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে সোমবার টঙ্গী থানার এসআই মনিরুজ্জামান, কনস্ট্রেবল দেলোয়ার হোসেন, মজিবুর ও আব্দুল মতিনকে ক্লোজড করেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। এরপর থেকে তাকে গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়।টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত মাহবুবুর রহমান চৌধুরী জানান, জামালের ডান হাঁটুতে গুলির এবং মাথায় জখমের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।মো. আমিনুল ইসলাম/এসএস/পিআর