কষ্ট করে আর কারো ধান ভাঙানোর জন্য কলে যাওয়া লাগবে না। এবার থেকে ধান ভাঙানো কলই আপনার বাড়িতে হাজির হবে। তবে এই সুবিধা শুধু গুরুদাসপুর উপজেলায় পাওয়া যাবে। না সরকারি বা এনজিও কোন উদ্যোগ নয়। কিছু উৎসাহী সমাজ সেবক ভ্রাম্যমাণ ধান ভাঙানো কলের সাহায্যে গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধান ভাঙিয়ে বছরের খোরাকির চাল তুলে দিচ্ছেন কৃষকের ঘরে ঘরে। গুরুদাসপুর উপজেলার বিশেষ করে চলনবিল বিধৌত বিয়াঘাট ও খুবজীপুর ইউনিয়নের খেটে খাওয়া মানুষের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত বিপদজনক। বিশেষ করে বর্ষাকালে ভাড়া করা নৌ যোগাযোগ ছাড়া অন্য কোন বাহন ছিল না গঞ্জে যাওয়ার। তাই সারা বছরের খোরাকির চাল ঘরে তুলতে প্রতিনিয়তই তারা ব্যবহার করতো ভ্রাম্যমাণ ধান ভাঙানো কল। এতে করে কল মালিক বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধান ভাঙিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের সেবায় ব্যস্ত থাকতো দিনরাত। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলেও জালাল উদ্দিনের ধান ভাঙানো কল এখনো বহুল প্রচলিত। ধান কাটার মৌসুম এলেই এলাকাবাসী তাদের ঘরের রক্ষিত ধান নিয়ে ছুটে যায় তার ধান ভাঙানো কলে। বর্তমানে গুরুদাসপুর উপজেলা সদর থেকে খুবজীপুর ইউনিয়ন সদরসহ শ্রীপুর, বামনবাড়িয়া, তেলকুপি, পিপলা, চর-পিপলা, বিলসা, চর-বিলসা, যোগেন্দ্রনগর, কালাকান্দর, জ্ঞানদানগর, বিলহরিবাড়ি, রুহাই ও কুন্দইল গ্রামের সাথে সম্পৃক্ততা রেখে গুরুদাসপুর তাড়াশ মৈত্রী সড়ক ও ঐতিহাসিক ‘মা জননী সেতু’ নির্মিত হয়। নৌ যোগাযোগ বন্ধ করে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের মাধ্যমে উপজেলার সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সুরক্ষিত হলেও ওই এলাকার মানুষ এখনও তাদের উৎপাদিত ধান, গম, ভুট্টা ইত্যাদি ভাঙানোর জন্য উপজেলা সদরের হাটবাজারে না এনে এলাকাতেই ভ্রাম্যমাণ ধান ভাঙানো কলের মাধ্যমে খাওয়ার উপযোগী করে সারা বছরের খোরাকির চাল ঘরে তোলে।ভ্রাম্যমাণ ধান ভাঙানো কলের মালিক খুবজীপুর উত্তরপাড়ার জালাল উদ্দিন (৭০) বলেন, তিনি কমপক্ষে ৩০ বছর যাবৎ ২৫ অম্বশক্তির চাংচাই চায়না মেশিন দিয়ে ভ্রাম্যমাণ ধান ভাঙানো কল তৈরি করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতি মণ ৩০ টাকা করে ধান ভাঙিয়ে অর্থ উপার্জন করে সংসার চালান। তিনি প্রতি দিন ১শ’ থেকে দেড়শ’ মণ করে ধান ভাঙিয়ে এলাকার মানুষকে উৎসাহিত করে আসছেন। এসএস/এমএস