নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার নদনা ইউনিয়নের হাটগাঁও গ্রামে মাজার শরীফের খাদেম সোনা মিয়াকে (৬৫) হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে আটক করে পুলিশ দিয়েছে এলাকবাসী।
আটকরা হলেন, সোনাইমুড়ী উপজেলা নদনা ইউনিয়নের বড়গাঁ গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে ইলিয়াছ (২৭) ও একই গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে সুজন (২০)।
স্থানীয় এলাকাবাসাী জাগো নিউজকে জানান, নদনা ইউনিয়নের হাটগাঁও গ্রামে মৌলভী আফজল পাটোয়ারী দরবার শরীফ ও মাজারে গত ৩৫ বছর ধরে খাদেমের দায়িত্ব পালন করে আসছেন শরীয়তপুরের হবিপুর গ্রামের আপেল হাওলাদারের ছেলে সোনা মিয়া। বুধবার মাগরীবের নামাজের পর আটক দুই যুবক দরবার শরীফে এসে খাদেম সোনা মিয়াকে মাজার সংলগ্ন ঘর থেকে ডেকে নেয় এবং মাজার শরীফে মোমবাতি জ্বালায়।
হঠাৎ শোর চিৎকারে এলাকাবাসী দৌড়ে এসে সোনা মিয়ার রক্তাক্ত দেহ মাজারের পাশে পড়ে থাকতে দেখেন। এসময় ঘটনাস্থলের সবাই একই এলাকার হওয়ায় একে অপরকে চিনতে পারে কিন্তু ঘাতক ইলিয়াছকে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। তাকে আটক করে গণপিটুনী দিলে সে স্থানীয় এলাকাবাসীর কাছে হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে। এসময় তার দেয়া স্বীকরোক্তি অনুযায়ী সুজন নামে আরো এক ঘাতককে পালিয়ে যাওয়ার সময় আটক করা হয়।
এসময় তার কাছ থেকে ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়। এলাকাবাসীর ধারণা তারা জঙ্গি কোনো সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, পিবিআই, র্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ জানান, আটকদের বিষয়ে পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থা ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত করছে।
মিজানুর রহমান/এফএ/আরআইপি