দেশজুড়ে

আমি কি আবারও স্কুলে যেতে পারব?

‘আমি কি আবারও স্কুলে যেতে পারব? আমার পড়ার সব বই ভেসে গেছে। স্যারেরা কি আবারও আমাকে বই দিবে? আমি কি স্কুলে যেতে পারব?’

বন্যা কবলিত লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার নিজ গড্ডিমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহানাজ আক্তার কথাগুলো বলছিল।

শুক্রবার সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বন্যার পানিতে বাড়িঘর বইখাতা হারিয়ে স্কুলে যাওয়া নিয়ে হতাশা কাটছে না শতশত শিক্ষার্থীর। শাহানাজ আক্তার উপজেলার তালেব মোড় এলাকার নিজ গড্ডিমারী গ্রামের দিনমজুর শাহাজামাল আলী ও আন্জু আরার মেয়ে। পরিবারটি বন্যায় সব হারিয়ে আজ নিঃস্ব।

একই এলাকার মৃত আক্কাস আলী ও জরিনা বেগমের মেয়ে ছবুরা আক্তার (৫ম শ্রেণী), ফজল হকের ছেলে কালাম (৩য় শ্রেণী), মেয়ে নারগিস (২য় শ্রেণী) ও ফলেরার (এসএসসি পরীক্ষার্থী) সব বই বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। বইয়ের অভাবে স্কুলে যেতে পারছে না তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলায় শতশত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীর বই বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। অনেক শিক্ষার্থীর বই ভিজে গেছে।

শাহানাজ আক্তারের মা আন্জু আরা (২৮) বলেন, তিস্তার বাঁধ ভেঙে বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করে সব ভেসে গেছে। তিন ছেলে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে এখন রাস্তায় আছি।

হাতীবান্ধা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হাসান আকিত বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নতুন করে বই দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বন্যায় প্রাথমিক বিদ্যালয় ডুবে যাওয়ায় লালমনরিহাট জেলার দুইটি উপজলোর ৩২৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্য লালমনিরহাট সদর উপজলোয় ১৪৮টি ও হাতীবান্ধা উপজলোয় ১৭৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আগামী ১৯ আগস্ট থেকে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

রবিউল হাসান/আরএআর/পিআর