‘হঠাৎ বন্যায় নিজের পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। ভেসে গেছে বাড়িসহ সব কিছুই। এই বন্যায় ত্রাণ বলতে কিছুই পাইনি, পেয়েছি শুধু এক টোপলা খিচুরি। তাই ছেলে-মেয়েদের নিয়ে এক বেলা খেয়ে কোনো রকমে বেচেঁ আছি।’
বন্যাকবলিত লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের মধ্য গড্ডিমারী গ্রামের ছালেহা বেগম (৩৫) কথাগুলো বলছিলেন।
শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, মধ্য গড্ডিমারী গ্রামের ছালেহা বেগম বন্যায় ভেঙে যাওয়া বাড়িঘর নিজেই মেরামত করছেন। ওই গ্রামের রিকশাচালক আব্বাস আলীর স্ত্রী ছালেহা বেগম। আব্বাস আলী ঢাকায় রিকশা চালান। বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরে তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে ভেঙে যাওয়া ঘর মেরামত করছেন ছালেহা বেগম।
ওই এলাকার বানভাসি ফরিদা বেগম (৩০) ভেসে যাওয়া ঘরের টিন খুঁজে বের করে আবারও বাড়ি মেরামতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিস্তা, ধরলা ও সানিয়াজান নদীর পানি কমে যাওয়ায় জেলার ৫টি উপজেলার মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করছে। বাঁচার তাগিদে এসব বানভাসি মানুষ আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।
এদিকে বন্যাকবলিত হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী হাইস্কুল মাঠে সেনাবাহিনীর একটি মেডিকেল টিম বন্যার্তদের সেবায় স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করছে।
হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান জানান, বন্যার্তদের জন্য মাত্র ৬ টন চাল ও শুকনো খাবার বরাদ্দ পেয়েছিলাম। সেগুলো ১২শ পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবল বন্যার কারণে লালমনিরহাটে ১০৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। পানি কমতে থাকায় তারা বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছে।
রবিউল হাসান/আরএআর/আরআইপি