দেশজুড়ে

যানজট নিরসনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ১২০০ পুলিশ

গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট নেই। এই মহাসড়ক দুটোতে যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সড়কে গাড়ির চাপ বাড়লেও নেই কোনো যানজট।

দুইদিন আগেও কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় যেখানে যানজটের কবলে পড়ে শত শত যানবাহনের হাজার হাজার যাত্রীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। সেই চন্দ্রায় বুধবার সকাল থেকে একেবারেই যানজটমুক্ত।

গাড়ি চলছে স্বাভাবিকের চেয়েও স্বাভাবিক। এ জন্য আনেকেই পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কারণ গাজীপুরে বিভিন্ন পয়েন্টে ১২শ পুলিশ কাজ করছে।

এছাড়া যানজট নিরসনের জন্য গাজীপুরে কর্মরত সকল পুলিশের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে থেকে বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, অন্যান্য সময় টঙ্গী থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাইপাসমোড়, চান্দনা চৌরাস্তা, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ি, মৌচাক, সফিপুর, যানজট লেগেই থাকত।

কিন্তু বুধবার সকালে এ চিত্র ছিল একেবারে উল্টো। গাজীপুরের ১২শ জেলা পুলিশের সাথে শতাধিক হাইওয়ে পুলিশ একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন।

অানফিট গাড়িগুলো মহাসড়কে চলতে দেয়া হচ্ছে না। বাসের ছাদে ও ট্রাকে যাত্রী পরিবহন করতে দেয়া হচ্ছে না। এতে পথে দুর্ঘটনাও কমে গেছে, যানজট নেই বললেই চলে। আর কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারের ঈদে ঘরমুখো মানুষের জন্য গত রোজার ঈদের চেয়েও স্বস্তিদায়ক হবে।

মাওনা হাইওয়ে থানা পুলিশের ওসি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজট নেই। এ মহাসড়কটি চারলেনে উন্নীত হওয়ার পর থেকেই যানজট কমে গেছে। ঈদে ছুটি কম থাকায় এবং সম্প্রতি উত্তরাঞ্চলে বন্যা হওয়ায় হয়তো অনেকেই ঈদ করতে গ্রামে যাচ্ছেন না, কর্ম এলাকায়ই ঈদ করছেন। গত ঈদে এ সময়ে (ঈদের দুইদিন আগে) গাড়ির চাপ বেশি ছিল। কিন্তু বুধবার সকালে এ মহাসড়কে গাড়ির চাপ দেখা যায়নি। গাড়ি চলাচল অনেটাই স্বাভাবিক। তারপরও গাজীপুরের বিভিন্ন স্পটে শতাধিক হাইওয়ে পুলিশ মোতায়েন রয়েছেন। যাতে গাড়ি চলাচল বিঘ্নিত না হয়।

এ বিষয়ে গাজীপুরের সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাহিন রেজা জানান, দুইদিন ধরে টানা বৃষ্টি না থাকায় গাজীপুরে ক্ষতিগ্রস্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টঙ্গী থেকে শুরু করে চান্দনা চৌরাস্তা, কোনাবাড়ি, মৌচাক, সফিপুর ইত্যাদি এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো দ্রুত মেরামত করা সম্ভব হয়েছে। মেরামতের ফলে তা যানবাহনগুলো চলাচল করতে পারছে। এতে অন্তত এসব পথে গাড়ি সচল রয়েছে। কোথাও যানবাহন একেবোরে থেমে নেই।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান, যানজট নিরসনে এবার রাস্তায় কোনো কোরবানির পশুর হাট বসতে এবং পশু ওঠানো-নামানোর অনুমতি দেয়া হয়নি। রাস্তার ওপর অবৈধ স্থাপনা ও ভাসমান দোকানপাট উচ্ছেদ ছাড়াও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে রাস্তায় অবৈধ তথা ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করায় গাজীপুরে মহাসড়ক অনেকটাই যানজট মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

মোঃ আমিনুল ইসলাম/এএম/এমএস