গণহত্যা থেকে বাঁচতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত ৫ শতাধিক হিন্দু পালিয়ে এসেছেন বাংলাদেশে। আর মুসলমান এসেছেন লক্ষাধিক। তবে এখানে কোনো ভেদাভেদ নেই। কারণ সবাই মানুষ।
অথচ মানুষই মানুষকে কেটে ফেলছে। পুড়িয়ে মারছে। গণহত্যা চালাচ্ছে। এমনটি বলেছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত।
তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবেই মিয়ানমারে গণহত্যা চালাচ্ছে। এই গণহত্যার আন্তর্জাতিকভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধে যারা জড়িত তাদেরকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় আনতে জাতিসংঘকে উদ্যোগ নেয়ার দাবিও জানান তিনি।
গতকাল রোববার কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে আশ্রিত রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা হিন্দু শরণার্থীদের আশ্রয়স্থল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা চলছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
অ্যাডভোকেট রান দাশ গুপ্ত বলেন, সম্প্রতি মিয়ানমারে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করা হয়েছে। তাদের হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। গত ২৭ আগস্ট পরবর্তী বার্মা সীমান্ত অতিক্রম করে সাড়ে ৫০০ জনের মতো হিন্দু শরণার্থী কুতুপালং এসে আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে ১০০ জনের মতো আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নেয়।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে অনুপ্রবেশ করা হিন্দু শরণার্থীদের রবাত দিয়ে তিনি বলেন, কালো মুখোশধারীরাই হিন্দুদের ওপর হামলা করে। বার্মিজ ভাষায় কথা বলা মুখোশধারীদের হাতে বন্দুক, বোমা, ছোরা, দা-খুন্তিও ছিল বলে দাবি তার।
মিয়ামারে গণহত্যার বিরুদ্ধে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হয়ে মানবতাবাদী ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে রানা দাশ গুপ্ত আরও বলেন, বাংলাদেশে আশ্রিতদের জীবন রক্ষায় সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে এগিয়ে আসতে হবে।
সায়ীদ আলমগীর/এএম/এমএস