দেশজুড়ে

‘ছোটাছুটিতে কোল থেকে পড়ে হারিয়ে গেছে দুই সন্তান’

মিয়ানমারে সহিংসতায় রাতের আঁধারে হাজারও রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে ঘুমধুমের আম বাগান পয়েন্টে ও বালুখালীতে বনবিভাগের বিশাল এলাকাজুড়ে নতুন বস্তি গেড়েছেন।

এখানে পুরোদমে চলছে ছোট-ছোট তাঁবু স্থাপনের কাজ। কয়েক সহস্রাধিক রোহিঙ্গা অবস্থান নিয়েছে নতুন বস্তিতে। ঘুমধুমের আম বাগান পয়েন্টে বিজিবির প্রহরায় অন্তত ৬ সহস্রাধিক রোহিঙ্গা জড়ো হয়ে আহাজারি করতে দেখা গেছে।

মিয়ানমারের ওয়াবেং গ্রামের স্বামী হারানো রোহিঙ্গা নারী মমতাজ বেগম (২৮) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মিয়ানমারের মগ সেনারা স্বামী আবুল ফয়েজকে ধরে নিয়ে গুলি করে মেরে ফেলেছে।

তিনি বলেন, তিন শিশু সন্তান নিয়ে অন্যদের সহযোগিতায় টেকনাফের কাঞ্জরপাড়া হয়ে এপারে চলে আসি। শনিবার রাতে গাড়িযোগে কুতুপালং আসার পথে বিজিবি আটক করে ঘুমধুমে এ পয়েন্টে জড়ো করে রেখেছে। রাতের সময় ছোটাছুটিতে কোল থেকে পড়ে দুই সন্তান কোথাও হারিয়ে গেছে বলতে পারি না। মমতাজের মতো আরও অসংখ্য নারী-শিশুর কান্নায় ঘুমধুম সীমান্তের বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ঘুমধুম ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বলেন, এক জায়গায় জড়ো করা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা অন্তত কয়েক হাজার হবে। অনুপ্রবেশে ঠেকাতে তৎপর রয়েছে বিজিবি সদস্যরা।

টহলরত ঘুমধুম বিজিবির নায়েবে সুবেদার রফিকুল ইসলাম বলেন, জড়ো হওয়া রোহিঙ্গারা যাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে না যায়, তা দেখা হচ্ছে। পুশব্যাক করা হবে কিনা জানতে চাইলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির অপেক্ষায় আছেন বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা বলেন, আরাকান রাজ্যের বিভিন্ন গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের লেলিহান শিখা সীমান্ত এলাকা থেকে দেখা যাচ্ছে। উখিয়ার পার্শ্ববর্তী ঘুমধুম, তুমব্রু, জলপাইতলীর নুরুল ইসলামের আমবাগান, পশ্চিমকুলের বাঁশ বাগান, উখিয়ার রহমতের বিল, ধামনখালী, বালুখালী, পালংখালী পয়েন্ট দিয়ে দিন-রাত রোহিঙ্গারা জিরো পয়েন্টে জড়ো হচ্ছে।

অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা টেকনাফের হোয়াইক্যং উলুবনিয়া, লম্বাবিল, খারাইংগ্যা ঘোনা, উখিয়ার পালংখালী এলাকা দিয়ে নাফনদী অতিক্রম করে সীমান্তের উপকূলীয় বিভিন্ন বনে লুকিয়ে থাকে। রাতের আঁধারে অনুপ্রবেশ করে টেকনাফের লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প, নয়াপাড়া শারণার্থী ক্যাম্প, উখিয়া কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প, কুতুপালং ও বালুখালী অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাস্পে সুযোগ বুঝে আশ্রয় নিচ্ছে বলে জানান এসব ক্যাম্পের মাঝিরা।

সায়ীদ আলমগীর/এএম/আইআই