দেশজুড়ে

ঠাকুরগাঁওয়ে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ২

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকা তদন্ত ও যাচাই-বাছাইকে কেন্দ্র করে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও তার স্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছে।

শনিবার দুপুর ১২টায় ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পুরাতন মুক্তিযোদ্ধা অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, বড় পলাশবাড়ী ইউনিয়ন কমান্ডার ফারুক মিয়ার ছেলে ও পুত্রবধূ। তারা বর্তমানে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের উপর মুক্তিযোদ্ধা নাজমুলের সন্তানেরা হামলা করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২ মে চাড়োল গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিমউদ্দিন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীকে উপজেলার ৩১ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকা দিয়ে তদন্তের জন্য লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এরই প্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি অভিযোগ পত্রটি গ্রহণ করেন।

পরে ৪ জন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার তদন্ত মন্ত্রী নিজেই করবেন বলে জানান তিনি। আর ন্যুনতম এডিসি ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এবং উপজেলা কমান্ডারকে নিয়ে ফজলে আলমসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে নির্দেশ দেয়া হয়। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শফিকুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

সেই কমিটি আজ শনিবার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করা শুরু করে আর সেই সময়ে এ সংঘর্ষ ঘটে।

অভিযোগে জানা যায়, ওই উপজেলায় অর্থের বিনিময়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে সমাজ কল্যাণ ও মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করে আসছেন। অভিযুক্তরা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরিও করছেন। ইতোমধ্যে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ২৭ জনকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক নোটিশ পাঠিয়েছেন।

তবে সংঘর্ষের ঘটনার পর কোনো মুক্তিযোদ্ধা ঘটনার কথা প্রকাশ করতে রাজি হয়নি। তাদের আশংকা মুখ খুললে যদি তাদেরকেও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় পড়তে হয়।

ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধার ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার বদিউজ্জামান বদর জানান, তদন্ত চলাকালিন সময়ে বাইরে সংঘর্ষের ঘটনা হয়েছে শুনলাম। আমরা এখনও তদন্তের কাজ করে যাচ্ছি।

রবিউল এহসান রিপন/এফএ/জেআইএম