দেশজুড়ে

বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কুষ্টিয়ার চালমিলে টাস্কফোর্সের অভিযান

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের নির্দেশের পরপরই রোববার বিকেলে কুষ্টিয়ার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও এসপির নেতৃতে বাংলাদেশ চালকল মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুর রশিদের গুদামে অভিযান চালায় টাস্কফোর্স।

বিকেল সোয়া ৪টার দিকে কুষ্টিয়ার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান ও পুলিশ সুপার এসএম মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে অবস্থিত রশিদ অ্যাগ্রো ফুড লিমিটেডে অভিযান চালায়।

তবে বাংলাদেশ চালকল মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুর রশিদের গুদামে কোনো কিছু না পেয়ে খালি হাতে ফেরত আসেন টাস্কফোর্সের সদস্যরা।

পরে টাস্কফোর্স সদস্যরা পাশের জোয়ার্দার রাইস মিলে অভিযান চালায়। সেখানেও কোনো কিছুর সন্ধান না পেয়ে ফিরে আসেন তারা।

অভিযান প্রসঙ্গে কুষ্টিয়ার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানান, চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর মনিটরিংয়ের পাশাপাশি নিয়মিত টাস্কফোর্সের অভিযান চলছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ চালকল মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুর রশিদের গুদামে অভিযান চালানো হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার সচিবালয়ে অটোমিল মালিক অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী অতিরিক্ত চাল মজুদের অভিযোগে বাংলাদেশ চালকল মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি ‘রাইস কিং’ খ্যাত কুষ্টিয়ার আব্দুর রশিদ এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলীকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।

সম্প্রতি সরকারি একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রায় দুই লাখ মেট্রিক টন চাল মজুদ রাখা আছে রশিদের গুদামে এমন তথ্যের ভিত্তিতে গত ১১ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া সদর এসিল্যান্ড সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স সদস্যরা চালকল মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুর রশিদের গুদামে অভিযান চালায়। সেখানে টাস্কফোর্স টিম তার ১৩টি গুদামে বিপুল পরিমাণ ধান ও চাল মজুদের প্রমাণ পান।

সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের টাস্কফোর্স টিমের প্রধান সদর এসিল্যান্ড সাইফুল ইসলাম জানান, অবৈধ মজুদদারির মাধ্যমে আব্দুর রশিদ প্রতিদিন অন্তত ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু মজুদদারির অভিযোগে রশিদকে গ্রেফতার না করে টাস্কফোর্স মাত্র ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযানের পর চালকল মালিক সমিতির এই নেতা কুষ্টিয়ার গুদামগুলোতে রাখা বিপুল পরিমাণ ধান-চাল দেশের অন্যান্য গুদামে সরিয়ে ফেলেছেন। বিষয়টি জানতে পেরে বাণিজ্যমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে কুষ্টিয়ার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও নওগাঁর ডিসি এবং দুই জেলার এসপির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।

এদিকে, মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আবারও কুষ্টিয়ায় চালের দাম কেজি প্রতি দুই থেকে পাঁচ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে যে মিনিকেট চাল ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল এখন তা ৬৫ টাকা কেজি, আঠাশ চাল ৫২ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫৬ টাকা, স্বর্ণা চাল ৪২ টাকা থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ নিয়ে গত এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে কুষ্টিয়ায় চালের দাম চতুর্থ দফায় কেজি প্রতি সর্বনিম্ন ৮ টাকা থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

আল-মামুন সাগর/এএম/জেআইএম