দেশজুড়ে

প্রথম দিনে ভিড় নেই নওগাঁর ওএমএস চাল বিক্রয়কেন্দ্রে

নওগাঁয় ওএমএসের চাল বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়। তবে চাল বিক্রির বিষয়টি জনগণ না জানায় প্রথম দিনে তেমন ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি। শনিবার ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ চাল বিক্রি কার্যক্রম চলবে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিজন পাঁচকেজি করে স্বল্পমূল্যে চাল কিনতে পারবেন।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন পাঁচজন ডিলারের মাধ্যমে সদর উপজেলার পাঁচটি পয়েন্টে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতিজন ডিলার ১ মেট্রিক টন চাল বিক্রি করতে পারবেন। যে পরিমাণ চাল গুদামে মজুদ আছে আগামী কয়েক মাস ভালোভাবে নওগাঁয় ওএমএস কার্যক্রম চালু রাখা যাবে।

দীর্ঘদিন ধরে সারাদেশে ওএমএসের চাল বিক্রি বন্ধ ছিল। সরকার চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে খোলা বাজারে ওএমএস চাল বিক্রি শুরু করেছে। এজন্য রোববার সন্ধ্যায় শহরের বিভিন্ন স্থানে জেলা খাদ্য বিভাগ থেকে মাইকিং করা হয়।

বিগত দিনে এই কর্মসূচিতে চালের মূল্য ছিল ১৫ টাকা। তবে এবার তা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে। প্রতিকেজি চাল ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ওএমএস চালু করা হলেও খুচরা বাজারে চালের দামে কোনো প্রভাব পড়েনি। সোমবার পৌর চাল বাজারে প্রতিকেজি মিনিকেট ৬০-৬২ টাকা, নাজিরাশাইল ৫৮-৬০ টাকা, আঠাস ৫৪-৫৫ টাকা, পারিজা ৪৮-৫০ টাকা, এলসি ৫০ টাকা। গত ১ সপ্তাহে ৫৯ কেজি ওজনের বস্তা প্রতি ২০০-২৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। চালের দাম ঊর্ধ্বমূখী হওয়ায় অস্বস্তিতে রয়েছে সর্বস্তরের মানুষ।

শহরের আনন্দনগর মহল্লা থেকে ওএমএসের ৫ কেজি চাল কিনেছেন জিন্নাতুন বেগম। তিনি বলেন, বাজারে চালের দাম খুবই বেশি। আমাদের মতো দিন আনা দিন খাওয়া মানুষদের জন্য কষ্টকর। সরকার থেকে যে চাল বিক্রি করা হচ্ছে তা আমাদের মতো গরীবদের জন্য সুবিধাজনক। আর সরকার যেন সারা বছরই এটা চালু রাখে।

শহরের তরকারি বাজার ওএমএস ডিলার শ্রী সুবল চন্দ্র রায় বলেন, প্রতিদিন যে পরিমাণ চাল বরাদ্দ করা হয়েছে তা পর্যাপ্ত না। চালের বরাদ্দ আরো বাড়াতে হবে। মাইকিং করে এর প্রচারণা আরো বাড়াতে হবে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, জেলার ১১ উপজেলার ১৯ গুদামে সাত হাজার ৩৬০ মেট্রিক টন চাল মজুদ আছে। এছাড়া গম আছে ৩ হাজার ২২২ মেট্রিক টন।

আব্বাস আলী/এফএ/এমএস