ক্যাম্পাস

অডিও ক্লিপের কথা স্বীকার করলেন ইবি প্রক্টর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নিয়োগ বাণিজ্য সংক্রান্ত ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপের কথোপকথোনের কথা স্বীকার করেছেন প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান। তবে নিয়োগ বাণিজ্যের কথা তিনি অস্বীকার করেছেন। গত ১৯ সেপ্টেম্বর ‘ইবিতে ফের নিয়োগ বাণিজ্যের অডিও ফাঁস’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পরে ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। তবে এ আলোচনার মধ্যেই তিনি প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে অডিও ক্লিপ এবং কথোপকথোনের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন।

প্রতিবাদলিপিতে তিনি লিখেছেন,কোনো নিয়োগ বোর্ডে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের দলীয় ও গ্রুপের প্রতি আনুগত্য নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের সঙ্গে কাউন্সিলিং করা হয়। তারই প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের সঙ্গে যে কথা হয় তারই একাংশ মাত্র অডিও ক্লিপ থেকে তুলে ধরে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে।

এদিকে প্রক্টর নিয়োগ বোর্ডের সদস্য না হয়েও কিভাবে বোর্ডে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের কথা জানতে পারলেন এবং তাদের নিয়ে কাউন্সিলিং করলেন এ নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নিয়োগ বোর্ডে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত সদস্যদের সঙ্গে কাউন্সিলিং করা হয় কিনা এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, এটা খুবই দু:খজনক ঘটনা। আর নিয়োগ বোর্ডে চূড়ান্ত প্রার্থী নিয়ে কখনো কথা বলা যায় না। এমনকি সিন্ডিকেটে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে তাদের সম্পর্কে জানাও যায় না। এ কথা স্বীকার করার মানে ভিন্ন। আর নিজেকে বাঁচাতে গিয়ে তিনি শিক্ষক ফোমকে হেয় করেছেন। পরবর্তী মিটিংয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

এ বিষয়ে প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবুল আরফিন জাগো নিউজকে বলেন,সিলেকশন বোর্ড একটি ফরমাল বোর্ড। এ বোর্ডের বিষয় নিয়ে কাথা বলার এখতিয়ার কারও নেই। দায়ীত্বশীল পদে থেকে এমন মন্তব্য করা যায় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক এক সাধরাণ সম্পাদক জাগো নিউজকে বলেন, নিয়োগ বোর্ডে চূড়ান্ত প্রার্থীদের বিষয়ে ওই বোর্ডে উপস্থিত ব্যক্তি ছাড়া কারো জানার কথা নয়। উনি যেটা করেছেন তা ক্ষমতার অপব্যবহার। আর নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত প্রার্থীর সঙ্গে লেনদেন ছাড়া অন্য কোনো বিষয় থাকার কথাও নয়। আর উনি কাউন্সিলিং করার কে? উনি তো কোনো শিক্ষক ফোরামের নেতা ছিলেন না এবং এখনও নেই।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক জহুরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন,‘এটা একটা নজীরবিহীন ঘটনা। সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে নিয়োগ বোর্ডে প্রাথমিক চূড়ান্ত প্রার্থীদের বিষয়ে কারও জানার কথা নয়। কাউন্সিলিং তো আরও পরের বিষয়। আর দায়ীত্বশীল জায়গা থেকে এটি উনি কখনো করতে পারেন না। আইনের দৃষ্টিতেও এটা সঠিক নয়।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের বরেণ্য অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ জাগো নিউজকে বলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে হলে অবশ্যই যোগ্যতার ভিত্তিতে হতে হবে। দলীয় কাউন্সিলিং যদি হয়ে থাকে এটা একটা অপরাধ। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হলে তিনি শিক্ষক থাকার অধিকার হারাবেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন উর রশিদ আসকারী জাগো নিউজকে বলেন,অপরাধীদের বিরুদ্ধে বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর। তদন্ত এবং প্রমাণ সাপেক্ষে অপরাধী যেই হোক তার শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

ফেরদাউসুর রহমান সোহাগ/আরএআর/এমএস