সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার সয়াধানগড়া মধ্যপাড়া মহল্লায় মারুফা খাতুন (৩২) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন তার স্বামী। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মনোয়ারুল ইসলাম মনোয়ারকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরে পৌর এলাকার সয়াধানগড়া মধ্যপাড়া মহল্লার ভাড়াটিয়া বাড়ির বারান্দা থেকে মারুফার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মারুফা খাতুন (৩২) রায়গঞ্জ উপজেলার ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের কালিয়াবাড়ী গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে। আটক মনোয়ারুল উপজেলার নলকা ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ নলছিয়া গ্রামের মোকলেস সেখের ছেলে।
নিহতের বড় বোন জিয়াসমিন আক্তার জানান, গত ৭ বছর আগে রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জের নলছিয়া গ্রামের মোকলেস সেখের ছেলে সঙ্গে মারুফার বিয়ে হয়। পরবর্তীতে তাদের সংসারে একটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করে।
কিছুদিন পর মারুফাকে নিয়ে তার স্বামী মনোয়ারুল সিরাজগঞ্জ শহরের সয়াধানগড়া মধ্যপাড়া (নয়ন মোড়) এলাকায় ভাড়াটিয়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। তাদের সঙ্গে মনোয়ারের বড় ভাই ও ভাবিও বসবাস করতেন।
এ নিয়ে মাঝে মধ্যেই তাদের সংসারে ঝগড়া লেগেই থাকতো। মারুফাকে মাঝে মধ্যেই মারপিট করতো তার স্বামী। সোমবার মারুফা বাবার বাড়ি আসতে চাইলে স্বামী, বড় ভাই ও ভাবি বাধা দেয়।
একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। রাতে মারুফাকে তার স্বামী ও ভাই-ভাবিরা মারপিট করে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘরের বারান্দার সঙ্গে তার মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচারণা চালায়। নিহতের মাথায়, পায়ের হাঁটু ও মুখে আঘাতের চিহ্নিত রয়েছে বলে তিনি জানান।
সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়রা মারুফা খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
তিনি আরও জানান, নিহতের মাথা, হাত, পায়ে ও মুখে আঘাতের চিহ্নিত রয়েছে। তাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত শেষে এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা বিস্তারিত জানা যাবে। এ ব্যাপারে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ওসি।
ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এএম/আইআই