দেশজুড়ে

হাতের মুঠোয় জীবন তাদের

একের পর এক ডুবছে ট্রলার।  মরছে মানুষ।  হাতের মুঠোয় জীবন নিয়ে তবুও থেমে নেই ঝুকিপূর্ণ পারাপার।  এমন দৃশ্য ভোলা জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায়।  এ উপজেলায় রয়েছে ১২টি দ্বীপ চর।  এর ১০টি রুটে ছোট ছোট ট্রলারে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।  ট্রলারে যাত্রী বহনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানতে নারাজ স্থানীয় ট্রলার ব্যবসায়ীরা।  গত ৩ মাসে ৬টি যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবি হয়েছে।  সরকারিভাবে নামমাত্র টাকায় ইজারা নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ প্রভাবশালী একটি চক্র ওই ট্রলার ব্যবসায় জড়িত রয়েছেন।  এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ।  গত বৃহস্পতিবার শতাধিক যাত্রী নিয়ে ট্রলার ডুবি ও ৮ জনের মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় এসব বিষয় আলোচনায় আসে।  অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে জানান, সকল রুটে ট্রলারে যাত্রী বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।  ওই ঘোষণার পরও আইন মানছেন না প্রভাবশালী ট্রলার ব্যবসায়ীরা।  এদিকে ভোলাসহ উপকূলের ডেঞ্জার জোন হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৭ মাস  সি-সার্ভে ব্যতিত সকল ধরনের এমএল টাইপ লঞ্চ ও ট্রলারে যাত্রী পরিবহন  নিষিদ্ধ করেছে নৌ-মন্ত্রনালয়।  বছরের অন্যান্য সময় চলাচলের অনুমতি থাকলেও নির্দিষ্ট ৭ মাস ওই রুট পারমিটো  স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান বিআইডাব্লিউটিএ’র বরিশাল জোন ইন্সপেকটর।  অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৪ এপ্রিল মনপুরার ঢাল চর থেকে ২৪ যাত্রী নিয়ে  পাড়ি দেয়ার সময় ডুবে যায় একটি  ট্রলার।  ২১ এপ্রিল জাগলার চরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে পাড়ের কাছাকাঠি একটি ট্রলার ডুবে যাওয়ায় অল্পের জন্য রক্ষা পান যাত্রীরা।  ১১ মে মিয়া জমির শাহ নামে একটি যাত্রীবাহী ট্রলারডুুবি ঘটে।  ১৫মে পাতার চরে আরো একটি ট্রলার ডুবি হয়।  ২২ মে মনপুরা রামনেওয়াজ ঘাটে ১৬ টন ত্রাণের চালসহ একটি ট্রলার ডুবে যায়।  এর আগে তজুমদ্দিন থেকে শতাধিক পিকনিকের যাত্রী নিয়ে মনপুরায় আসার পথে একটি ট্রলার ডুবে গেছে।  সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ১১ জুন ডুবে গেছে গিয়াস ও মিজান মাঝির ট্রলার।  হাজিরহাটের স্কুল শিক্ষক আলমগীর হোসেন জাগো নিউজকে জানান, এ উপজেলায় ১০ রুটে ট্রলারে যাত্রী পারাপার করলেও ওইসব ট্রলারের কোনো ফিটনেস নেই।  এমনকি বৈধ চলাচলের অনুমতিও নেই।  কিভাবে চলছে, কারা চালাচ্ছে।  মাসোহাার কারা নিচ্ছে।  এসব বিষয় ওপেন সিক্রটে।  এদিকে বৃহস্পতিবার ডুবে যাওয়া ট্রলারের ব্যবসা নিয়ে লাখ লাখ টাকা কামিয়ে নেয়ার অভিযোগ ওঠেছে এক ইউপি মেম্বর ও স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে। ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই ফরহাদ, আলমগীর, মিজান ঘাট ইজারাদার রয়ে গেছে ধরা ছোয়ার বাইরে।  প্রতিটি দুর্ঘটনার জন্যই রয়েছে মাছ ধরা বা মালবাহী ট্রলারে যাত্রী বহন করা , ত্রুটিপূর্ণ ও ফিটনেস না থাকা।  ৭টি দুর্ঘটনার মধ্যে মাত্র সর্বশেষ কলাতলির ঘটনায় মামলা হয়েছে।  তাও মূল হোতারা আড়ালে থেকে গেছেন। অমিতাভ অপু/এমজেড/এমএস