সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এক্স-রে মেশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ২টি অ্যানেসথেসিয়া মেশিন মেরামতের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ লাখ টাকা ফেরত গেলো স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অধিকাংশই দরিদ্র। গত ৮ বছর ধরে হাসপাতালের ১টি এক্স-রে মেশিন, ১টি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন এবং ২টি অ্যানেসথেসিয়া মেশিন নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। এ কারণে বাইরে থেকে বাড়তি ব্যয়ে এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, অ্যানেসথেসিয়া করতে নানা সমস্যায় ও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগীদের।
এই বিষয়টি ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের ১৬ মার্চে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সরকারি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার শীর্ষক একটি সভায় উঠে আসে। তাৎক্ষণিক এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম ও অ্যানেসথেসিয়া মেশিন মেরামতের জন্য পরিচালককে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়। এরপর হাসপাতালের ১টি এক্স-রে মেশিন, ১টি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন এবং ২টি অ্যানেসথেসিয়া মেশিন মেরামতের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। বরাদ্দের ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও মেশিনটি মেরামতের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঠিকাদার না পাওয়ায় বরাদ্দকৃত টাকা বাধ্য হয়ে ফেরত দেয় হাসপাতাল পরিচালনা কমিটি।
হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার জন্য আসা জোসনা খাতুন জানান, তার ছেলের মাথায় প্রচণ্ড ব্যাথা। চিকিৎসক দেখাতে হাসপাতালে এসেছেন। ছেলেকে দেখে চিকিৎসক এক্স-রে করার পরামর্শ দেন। কিন্তু এক্স-রে মেশিন নষ্ট থাকায় ছেলেকে নিয়ে বাইরের বেসরকারি হাসপাতালে যাচ্ছি। সরকারি হাসপাতালে কম খরচে চিকিৎসা হয় শুনে আসার পর বাইরে থেকে অতিরিক্ত খরচে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের প্রধান সহকারী মো. শিহাব উদ্দিন বলেন, এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, অ্যানেসথেসিয়া মেশিনগুলো মেরামতের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। ঠিকাদার না পাওয়ায় বরাদ্দকৃত ওই অর্থ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ফেরত গেছে।
সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আরএমও মো. আকরামুজ্জামান বলেন, মেশিনটি মেরামত করার জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল। ঠিকাদার না পাওয়ায় মেশিনগুলো মেরামত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে মেশিন নষ্ট থাকায় বাধ্য হয়ে রোগীদের বাইরের হাসপাতাল থেকে এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম ও অ্যানেসথেসিয়া করাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মো. মঞ্জুর রহমান বলেন, মেশিনটি মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি আমি জানি। কিন্তু টাকা ফেরত গেলো কেন এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবেন।
ইউসুফ দেওয়ান রাজু/আরএআর/জেআইএম