নওগাঁর ধামইরহাটের বড়থা বাজার এলাকায় একটি সেতু ভেঙে পড়ার দেড়মাস পেরিয়ে গেলেও নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এতে জেলা শহর থেকে মহাদেবপুরের মাতাজীহাট হয়ে ধামইরহাট উপজেলায় যাওয়ার মাঝারিসহ সকল প্রকার বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এতে মহাদেবপুর, ধামইরহাট ও পত্মীতলা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সেতুটি দ্রুত নতুন করে নির্মাণ এবং রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট ধামইরহাট উপজেলার আড়ানগর ইউনিয়নের বড়থা বাজার এলাকায় স্থাপিত সেতুটি বন্যার পানির তোড়ে ভেঙে যায়। এতে মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়ন, ধামইরহাট উপজেলার আড়ানগর, ইসবপুর, জাহানপুর, উমার, ধামইরহাট, আলমপুর ও পত্নীতলা উপজেলার, আমাইড়, ঘোষনগর ও পাটিচড়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা অনেক পথ ঘুরে নওগাঁ শহর ও ধামইরহাট উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
ট্রাক্টর, ট্রাক ও ভটভটি করে ভারী জিনিসপত্র বহন করে ধামইরহাট থেকে আনা নেয়া করা সম্ভব হচ্ছেনা। জরুরী প্রয়োজনে পত্নীতলার নজিপুর হয়ে ঘুরে আসতে হচ্ছে।
মাতাজীহাট-ফতেপুর সড়ক দিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল করে নওগাঁ জেলা শহরে যেতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগত। সেতুটি ভেঙে পড়ায় এখন পত্নীতলার নজিপুর হয়ে ঘুরে নওগাঁ শহরে যেতে হচ্ছে ওইসব এলাকার মানুষকে। এতে সময় বেশি লাগছে। বাড়তি ভাড়াও গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। এদিকে সন্ধ্যারপর যানবাহন চালকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া নিচ্ছেন।
আবার সংশ্লিষ্ট বিভাগ সেতুটি নতুন করে নির্মাণ বা বিকল্প রাস্তা তৈরি না করায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান, সবজি, মাছসহ অন্যান্য পণ্য বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন না। বন্যার কারণে ওই পাকা রাস্তাটির পিচ ও ইটের খোয় উঠে গিয়ে মাঝে মাঝে বড় বড় খানা খন্দেরও সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রাস্তাটি চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটি পুরো অংশ ধসে পড়েছে। ভাঙা সেতুর এক পাশে বাঁশের চাটা (সাঁকো) তৈরি করা হয়েছে। সেই চাটা দিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করছে মানুষ। ঝুঁকি নিয়ে ভ্যান, সাইকেল ও মোটরসাইকেলও পার হচ্ছেন।
ধামইরহাট উপজেলার ফতেপুর গ্রামের সোহাগ, লিটন হোসেন ও আমাইর গ্রামের রকিবুল ইসলাম বলেন বলেন, বন্যার সময় ব্রিজটি ভেঙে যায়। তখন কয়েকটি শিশুর গাছ দেয়া হয়েছিল। এরপর চলাচলের সুবিধার জন্য বাঁশের চাঁটা করে ব্রিজ করা হয়েছে। যেখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভ্যান, সাইকেল ও মোটরসাইকেল কোনো রকম চলাচল করতে পারছে। তবে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
পাটিচারা গ্রামের সোহরাব আলী বলেন, ধামইরহাট থেকে জেলা শহরের যেতে প্রায় এক ঘণ্টা লাগত। এখন নজিপুর দিয়ে ঘুরে যেতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগছে। আবার বাড়তি ভাড়াও দিতে হচ্ছে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। সন্ধ্যারপর আবার বাড়তি ভাড়াও গুনতে হচ্ছে। আবার রাস্তার অবস্থাও বেহাল। হেলেদুলে চলছে ভ্যান।
ভ্যানচালক সমশের আলী বলেন, বন্যার পর ৫-৬ কিলোমিটার রাস্তা বেহাল হয়ে পড়েছে। পিচ ও ইটের খোয়া উঠে মাঝে মাঝে গর্ত হয়েছে। গত দেড় মাস থেকে রাস্তার ঝাঁকুনি ভ্যানের বিয়ারিং ভেঙে ও ইস্ক্রুপ কেটে গেছে। এছাড়া টায়ারের অবস্থাও খারাপ হয়ে গেছে।
আড়ানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী কমল বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে দ্রুত সেতুটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আজও সেতুটি সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। স্থানীয় হাট-বাজারে পণ্য পরিবহনে চরম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন লোকজন।
ধামইরহাট উপজেলা প্রকৌশলী আলী হোসেন বলেন, বন্যায় ভেঙে যাওয়া সেতুটির বিষয়ে জরুরি মেরামতের জন্য একটি স্ক্রিন তৈরি করে আমরা নওগাঁ অফিসে পাঠিয়েছি। সেখান থেকে রাজশাহী অফিসে গেছে। এরপর সেখান থেকে ঢাকা যাবে। সেখানে অনুমোদন হওয়ার পর আমরা ব্রিজের কাজ শুরু করতে পারব। কারণ অনুমোদন ছাড়া অন্য কাউকে দিয়ে কাজ করানো ঠিক হবেনা। আমাদের প্রক্রিয়াটা কেমন জানি দীর্ঘ হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, ওই রাস্তাটির বরাদ্দ পাস হয়ে আছে। এ অর্থবছরে আমরা কাজ শুরু করতে পারব।
আব্বাস আলী/এমএএস/আরআইপি