যশোরে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে আয়োজিত চাকরি মেলায় চাকরিপ্রত্যাশীদের ঢলে ভেসে গেছে আয়োজকদের সকল প্রস্তুতি। তিন হাজার আবেদন প্রত্যাশা করলেও ২০ হাজারের বেশি তরুণ-তরুণীর ভিড়ে মেলায় স্টল পরিদর্শন, সেমিনার ও স্পট ইন্টারভিউ কার্যক্রম হয়নি। অব্যবস্থাপনা ঢাকতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও দুর্ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ চাকরিপ্রত্যাশীদের।
আয়োজক জানান, অপ্রত্যাশিত সাড়া পাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে তাদের হিমশিম খেতে হয়েছে। এতে পুলিশের সাহায্য নেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়। ভোর থেকেই হাজার হাজার তরুণ-তরুণী ফাইল হাতে জড়ো হতে থাকেন যশোর শেখ হাসিনা সফটওয়ার টেকনোলজি পার্কে। দিনব্যাপী চাকরি মেলায় প্রার্থীদের ঢল সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। সকালে উদ্বোধন হলেও প্রায় ২০ হাজার চাকরিপ্রার্থীর চাপে স্টল এবং সেমিনার কক্ষগুলো সকালে খুলে দেয়া সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে পার্কের ক্যাম্পাসে কয়েকটি বাক্স দিয়ে তাতে বায়োডাটা জমা দিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের চলে যেতে বলা হয়। হ্যান্ড মাইক নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের প্রতি এই ঘোষণা দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন শিকদার। আর এই প্রক্রিয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেন চাকরিপ্রার্থীরা।
চাকরি মেলায় বায়োডাটার ১২টি কপি নিয়ে এসেছিলেন খুলনার পাইকগাছা এলাকার ছেলে সাগর ঢালী। তিনি ঢাকায় অন্যরকম সফটওয়্যার-এ কাজ করেন। কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক এই তরুণ আরও ভালো সুযোগের প্রত্যাশায় এই মেলায় এসেছিলেন।
তিনি বলেন, ঘোষণা ছিল, স্টল ঘুরে সিভি জমা দেয়া যাবে এবং স্পট ইন্টারভিউ হবে। কিন্তু এখন দেখছি, পুলিশ বায়োডাটা নিয়ে বিদায় করে দিচ্ছে। এই বায়োডাটা কোথায় যাবে, কার কাছে যাবে কিছুই বুঝতে পারছি না।
আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজের প্রকৌশল বিভাগে কর্মরত যশোরের কাজীপুর এলাকার তৌহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টলে যেতে দিচ্ছে না। তারাই বাক্স ভরে সিভি নিচ্ছে। এই সিভিগুলোর ভবিষ্যত নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।
সিভি জমা দিতে আসা যশোরের কেশবপুরের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পুলিশের বাঁধায় চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানে সরাসরি সিভি জমা দিতে পারিনি। বাধ্য হয়ে গেটের সামনে বক্সে জমা দিয়ে চলে এসেছি। জানি না আদৌও সিভি পৌঁছাবে কিনা।
যশোরের আরএন রোড থেকে উম্মে হাবিবা ও লুবনা জাহান এবং বকচর থেকে শারমিন সুলতানা এসেছিলেন সিভি জমা দিতে। আইটিতে পারদর্শিতা না থাকলেও তারা এসেছিলেন কোনো সুযোগ হয় কিনা তা যাচাই করতে। জানালেন, পুলিশের কাছেই সিভি জমা দিয়েছেন।
ভবনের মূল ফটকে সিভি জমা নেয়া ডিবি পুলিশের পরিদর্শক রফিকুল হক জানান, চাকরি প্রত্যাশীদের অতিরিক্ত চাপের কারণে তারা বাইরেই সিভি জমা নিচ্ছেন। এই সিভিগুলো নিয়োগ কমিটি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।
ডিজিকন’র ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আশরাফুজ্জামান রাসেল বলেন, চাকরি মেলায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক প্রার্থী মেলায় এসেছে। এই তরুণদের কাজে লাগানো গেলে বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থান হবে।
শেখ হাসিনা হাইটেক পার্ক প্রকল্পের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের জানান, তাদের প্রত্যাশা ছিল তিন হাজারের মত চাকরিপ্রত্যাশী মেলায় আসতে পারেন। কিন্তু এ সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার ছুঁয়েছে। এ কারণে বাধ্য হয়ে বাইরে সিভি জমা নিতে হয়েছে। দুপুরের পরে স্টলগুলো খুলে দেয়া হয়। এরপর সেখানেও অনেকে সিভি জমা দিয়েছেন।
এর আগে সকালে মেলার উদ্বোধন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এ সময় তিনি বলেন, আগামী তিন বছরে আইটি সেক্টরে প্রশিক্ষণ দিয়ে ৩ লাখ তরুণ-তরুণীকে দক্ষ করে তোলা হবে। আর ২০২১ সালের মধ্যে আইটি সেক্টরে ২০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। তাই আইটি সেক্টরে দক্ষতা অর্জন করতে পারলে কাউকে আর কর্মসংস্থান নিয়ে ভাবতে হবে না।
শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের একটি অডিটোরিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
পলক আরও বলেন, আজকের এই চাকরি মেলাকে ঘিরে যশোরসহ এই অঞ্চলে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। হাজার হাজার ছেলে-মেয়ে এখানে বায়োডাটা জমা দিতে এসেছে। তরুণদের এই উৎসাহ উদ্দীপনাকে কাজে লাগাতে পারলে অসাধ্য সাধন সম্ভব। উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিতে পারলে এই তরুণরাই বিশ্ব জয় করবে।
পার্কের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হোসেনে আরা বেগমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, বেসিস সভাপতি মোস্তফা জব্বার, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন, যশোর এমএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মিজানুর রহমান ও যশোরের জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা হাইটেক পার্ক প্রকল্পের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) জাহাঙ্গীর আলম।
মিলন রহমান/আরএআর/জেআইএম