আমাদের শরীর নির্দিষ্ট সময় পর পর কোষ পরিবর্তন করে। পুরোনো কোষগুলো ধীরে ধীরে ত্বকের ওপরের স্তরে উঠে আসে, যেগুলোকে বলা হয় ডেড স্কিন সেল। এই মৃত কোষের সঙ্গে বাইরের ধুলাবালি ও ময়লা জমে লোমকূপ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে শরীরে ব্রেকআউট, একনে কিংবা রুক্ষভাব দেখা দেয়।
অনেকের ভাবেন - যেহেতু শরীরের বেশিরভাগ অংশ পোশাকে ঢাকা থাকে, তাই সেখানে ময়লা জমার প্রবণতা কম। কিন্তু বাস্তবে এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং ঘাম, মৃত কোষ ও ময়লা জমে শরীরের ত্বক আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই লোমকূপ পরিষ্কার রাখতে এবং ত্বক সুস্থ রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত বডি স্ক্রাব।
বডি স্ক্রাবের নানা ধরন থাকলেও ত্বকের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ও নিরাপদ বিকল্পগুলোর একটি হলো সুগার বডি স্ক্রাব। শরীরের যত্নে এর উপকারিতা একাধিক।
১. রোদে পোড়া ট্যান দূর করতে সহায়কসুগার বডি স্ক্রাব ব্যবহারে ত্বকের ওপর জমে থাকা ডেড স্কিন সেল ধীরে ধীরে উঠে যায়। ফলে সূর্যের কারণে হওয়া ট্যান ও ট্যান লাইন ফিকে হতে শুরু করে। অতিরিক্ত পিগমেন্টেশনও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে, যা স্বাভাবিক কোষ পরিবর্তনের চেয়েও দ্রুত ফল দেয়।
সুগার স্ক্রাবের সঙ্গে ব্যবহৃত তেল ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক থাকে নরম, কোমল ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।
৩. রক্তসঞ্চালন বাড়ায়স্ক্রাব করার সময় ত্বকে হালকা ম্যাসাজের মতো চাপ পড়ে। এতে ত্বকের নিচে রক্তপ্রবাহ বাড়ে, যা ত্বককে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত রাখতে সহায়তা করে।
৪. ইনগ্রোন হেয়ার কমাতে সাহায্য করেনিয়মিত এক্সফোলিয়েশন লোমকূপ পরিষ্কার রাখে। শেভিং বা ওয়াক্সিংয়ের আগে সুগার বডি স্ক্রাব ব্যবহার করলে ইনগ্রোন হেয়ারের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
৫. ত্বকের রুক্ষভাব দূর করেদূষণ ও শুষ্কতার কারণে ত্বক অনেক সময় খসখসে হয়ে যায়। সুগার বডি স্ক্রাব ব্যবহারের পরই ত্বকে তাৎক্ষণিক কোমল ও মসৃণ অনুভূতি পাওয়া যায়।
চার টেবিল চামচ নারিকেল তেল, এক কাপ চিনি এবং কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল ভালোভাবে মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে ঘরোয়া সুগার বডি স্ক্রাব।
ব্যবহারবিধিসাধারণ ত্বকের ক্ষেত্রে সপ্তাহে দুইবার বডি স্ক্রাব ব্যবহার করা যায়। তবে সংবেদনশীল ত্বকের জন্য সপ্তাহে একবারই যথেষ্ট।
তথ্যসূত্র: বি বিউটিফুল, ব্যালেন্সড্ বাইটস্ হোলসাম ফুডস্
সানজানা রহমান যুথী/এএমপি/জেআইএম