জাতীয়

দেশে ফিরলেন আরো ৩৭ বাংলাদেশি

বন্দী জীবনের প্রায় একমাস পর দেশে ফিরেছেন মিয়ানমার জলসীমা থেকে ২১ মে উদ্ধার আরো ৩৭ জন বাংলাদেশি। শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তবর্তি মিয়ানমারের মংডুর ঢেকিবনিয়া এক নম্বর সেক্টরে শুরু হওয়া পতাকা বৈঠক শেষে দুপুরে বিজিবি কাছে তাদের হস্তান্তর করে মিয়ানমারের ইমিগ্রেশন বিভাগ ও বিজিপি। অল্প সময়ে বেশি টাকা আয় করে পরিবারের অভাব দূর করার স্বপ্ন নিয়ে সাগর পথে বিদেশ পাড়ি দিতে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু ভাগ্য তাদের টাকা আয়ের পথে ফেলেনি। নীল সাগরে প্রমত্তা ঢেউয়ে মৃত্যুর হাতছানি, বিদেশি নৌবাহিনীর হাতে বন্দী জীবনে অর্ধাহার-অনিদ্রা ও নিগৃহীত জীবনের ভোগান্তিই হয়েছে তাদের স্বপ্নের অর্জন। বৈঠকে বাংলাদেশের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার ১৭ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর ইমরান উল্লাহ সরকার । মায়ানমারের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন মায়ানমার ইমিগ্রেশন বিভাগের সহকারী পরিচালক চ নাইং। এসময় বিজিবির পক্ষে পর্যবেক্ষক ছিলেন ১৭ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম, কক্সবাজার সেক্টরের অতিরিক্ত পরিচালক মেজর আমিনুল ইসলাম। মায়ানমারের পক্ষে ছিলেন এক নাম্বার সেক্টর বিজিপির কমান্ডিং অফিসার পুলিশ লে. কর্নেল ক্যা তুই জ্যা। বৈঠক শেষে মায়ানমারের ঢেকুবনিয়া থেকে ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে ৩৭ বাংলাদেশি অভিবাসী নিয়ে বেলা ১টার দিকে দেশে প্রবেশ করে বিজিবি প্রতিনিধি দল। স্বদেশে ফেরত আসা ওইসব অভিবাসীকে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নিয়ে আসা হবে বলে জানা গেছে। কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এম এম আনিসুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, প্রথম দফায় ১৫০ জনকে ফেরত আনার পর দ্বিতীয় দফায় শুক্রবার আরো ৩৭ বাংলাদেশিকে ফেরত আনা হয়েছে। এদেরকে যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে ফেরত আনা হয়।তিনি আরো বলেন, গত বুধবার টেকনাফের নাফ নদীর জাদিমুরা পয়েন্ট সীমান্তে বিজিবি-বিজিপির মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে গোলাগুলির ঘটনায় ধরে নিয়ে যাওয়া বিজিবি সদস্য নায়েক রাজ্জাকের বিষয়টি নিয়ে পতাকা বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। পরবর্তীতে আরো একটি পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিজিবি সদস্য নায়েক রাজ্জাককে ফেরত দিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী।অপরদিকে, মিয়ানমার ইমিগ্রেশন বিভাগের সহকারী পরিচালক চ নাইং বলেন, বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্তদের ফেরত আনায় আমরা সন্তুষ্ট। এর মাধ্যমে দু’দেশের সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পারস্পরিক যোগাযোগ আরো সুদৃঢ় করতে হবে। এ সুসম্পর্কের মাধ্যমে সীমান্তে শান্তি বিরাজ করবে। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের ১০ সদস্যের নেতৃত্ব দেন বিজিবি ১৭ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর ইমরান উল্লাহ সরকার। তার সঙ্গে প্রতিনিধি দলে পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি ১৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম, বিজিবি কক্সবাজার সেক্টরের অতিরিক্ত পরিচালক মেজর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মেজর মাহবুব সাবের সহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও ইমিগ্রেশনের প্রতিনিধিরা। মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ইমিগ্রেশন বিভাগের সহকারী পরিচালক চ নাইং। এসময় তার সঙ্গে পর্যবেক্ষক হিসেবে ছিলেন মিয়ানমারের ১নং বর্ডার গার্ড পুলিশের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল ক্যাই তুই জ্যা সহ স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা। বিজিবি ১৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম জাগো নিউজকে জানান, গত ৮ জুন পতাকা বৈঠকের মাধ্যমের ১৫০ জনকে বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়। একই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্বে প্রত্যাবাসনের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মতো যাচাই করে শনাক্ত আরও ৩৭ বাংলাদেশিকে শুক্রবার ফেরত আনা হয়েছে। তিনি জানান, শনাক্ত হওয়া ৩৭ জন বাংলাদেশির মধ্যে রয়েছে সিরাজগঞ্জের ৫, মাদারীপুর ১, সুনামগঞ্জ ৪, কিশোরগঞ্জ ৮, হবিগঞ্জ ১১, জামালপুর ১ ও বগুড়ার ৭ জন। তিনি আরো বলেন, ৩৭ অভিবাসীকে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সায়ীদ আলমগীর/এমজেড/পিআর