লক্ষ্মীপুরে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ১৫৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যাহতের পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডেও নানা সমস্যা হচ্ছে। অতিরিক্ত ক্লাস নিতে গিয়েও হিমশিম খেতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের।মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে শূন্যপদগুলো দ্রুত পূরণ করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলা সদর, রামগঞ্জ, রায়পুর, কমলনগর ও রামগতি উপজেলায় ৭৩২ প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ২ লাখ ৪০ হাজার ৫৯৪ ছাত্রছাত্রী অধ্যয়ণরত। বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির হার শতকরা ৯৯.৯৭ শতাংশ। কিন্তু সদরে ৮৪, রামগঞ্জে ৩০, রায়পুরে ৫, কমলনগরে ১৪ ও রামগতিতে ১৮টিসহ মোট ১৫৫ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই।
সূত্র জানায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি ৩২ ভাগ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছে সরকার। আর ৬৫ ভাগ নিয়োগের ক্ষেত্রে পদোন্নতির মামলাজনিত কারণে পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া অবসরজনিত কারণেও পদশূন্য হচ্ছে।
সদরের নরসিংহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, ৭ মাস ধরে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। তিনি অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি হয়ে গেছেন। কর্মরত শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. সামছুদ্দিন বাবুল বলেন, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়েছে। শূন্যপদগুলো দ্রুত পূরণ করলে প্রাথমিক শিক্ষার ব্যাপক উন্নয়ন হবে।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর মো. সালেহ বলেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য কাজ করছে সরকার। ছাত্রছাত্রীদের মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে।
কাজল কায়েস/এফএ/এমএস