অপহরণের ৩দিন অতিবাহিত হলেও বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব উদ্দিনের খোঁজ মেলেনি।মঙ্গলবার রাতে মাহাতাব উদ্দিন ঢাকা থেকে বেনাপোলে ফেরার পথে পাটুরিয়া ফেরিঘাট থেকে অপহৃত হয়। সাদা পোশাকে ডিবি পরিচয়ে তাকে ধরে নিয়ে যায় একদল লোক।এদিকে অপহরণের ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে বেনাপোল পদ্মা পয়েন্টে এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। মাহাতাবের মেয়ে সাদিয়া আফরিন রিমা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তার বাবাকে ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।এ ঘটনায় তার বড় ছেলে শাহজালাল সোহাগ বুধবার রাতে মানিকগঞ্জের শিবালয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে। যার নং-৯১৩।সংবাদ সম্মেলনে রিমা তার বক্তব্যে বলেন, রাজনৈতিক কাজে গত শনিবার তার বাবা ঢাকা যায়। মঙ্গলবার রাত ৯-১৫ মিনিটে সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে করে ঢাকা থেকে বেনাপোলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। বাসটি পাটুরিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছালে রাত ২টার দিকে সাদা পোশাকের ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন লোক তাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ সময় বাসের ড্রাইভার হেলপার অপহরণকারীদের বাধা দিয়ে ব্যর্থ হয়।সংবাদ সম্মেলনে শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল হক মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নুরুজ্জামান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজ আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিনসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।অপরদিকে ৩দিন পার হয়ে গেলেও বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব উদ্দিনের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় তার পরিবারে চলছে শোকের মাতম।অপহৃত মাহাতাব উদ্দিন এর সাথে থাকা বেনাপোল পৌর যুবলীগের নেতা জুলফিকার আলী মন্টু জানান, মাহাতাব উদ্দিনকে পাটুরিয়া ঘাটের টোল আদায় ঘরের আগে জিরে পয়েন্ট থেকে প্রশাসনের পরিচয়ে অপহরণ করা হয়েছে। সে ও মাহাতাব বেনাপোল ফেরার জন্য ২৩ জুন ঢাকার মালিবাগ সোহাগ কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে রাত ৯টা ১৫ মিনিটে ২০২ নং এসি গাড়িতে আসছিলেন। অপহরণকারীরা এ গাড়ির অবস্থান জানার জন্য আব্দুল্লাহপুর সোহাগ কাউন্টারের ম্যানেজার মামুন তার মোবাইল থেকে উক্ত গাড়ির সুপারভাইজার রনির মোবাইল এবং গাড়ির ড্রাইভার নুরুল ইসলামের মোবাইলে ফোন করে গাড়ির অবস্থান মানিকগঞ্জ আছে বলে তাদের জানিয়ে দেয়। গাড়িটি ফেরি পারাপারের জন্য পাটুরিয়া ঘাটের টোল আদায় ঘরের আগে জিরো পয়েন্টে এসে থামালে মাহাতাব ও তার সঙ্গী মন্টু গাড়ি থেকে রাস্তার পাশে নামে। এরপর গাড়িতে ফিরে আসার পথিমধ্যে প্রশাসনের লোক পরিচয়ে ৬/৭ জন মাহাতাবের গতিরোধ করে অপহরণকারীরা তাদের সাথে থাকা দুটি কালো পাজেরো জীপ এবং একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে চলে যায়। এসময় মন্টু ও গাড়ির সুপারভাইজার বাধা দিতে গেলে তাদের দিকে পিস্তল তাক করে গুলি করার হুমকি দিয়ে এবং প্রশাসনের লোক বলে তাদের ফিরে যেতে বাধ্য করায় বলে তিনি জানান।জামাল হোসেন/এমএএস/আরআই