ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অপ্রতিরোধ্যভাবে বেড়েই চলেছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ। এসব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না গ্যাসের অবৈধ সংযোগ প্রদান।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত ফির টাকা জমা দিয়ে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আবাসিক গ্যাস সংযোগ পাওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও গ্যাসের নতুন সংযোগ পাচ্ছেন না সাধারণ গ্রাহকরা। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে ঠিকাদাররা রাতের আঁধারে অবৈধভাবে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন করে আবাসিক গ্যাস সংযোগ দিচ্ছেন। প্রতিটি গ্যাস সংযোগের জন্য গাহকদের ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত গুণতে হচ্ছে। এতে করে একদিকে সরকার যেমন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি অপিরকল্পিতভাবে নেওয়া অবৈধ গ্যাস পাইপলাইনের কারণে অগ্নিকাণ্ডের হুমকিতে রয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে। আর এ অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন। কিন্তু এরপরও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না গ্যাসের অবৈধ সংযোগ।সর্বশেষ গত ২৪ জুন দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার চণ্ডালখিল গ্রামে অভিযান চালিয়ে প্রায় আড়াই হাজার ফিট অবৈধ গ্যাস পাইপলাইন অপসারণ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদ জাগো নিউজকে জানান, জেলার বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে ঠিকাদাররা অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দিচ্ছেন। আমরা সেগুলো অভিযান চালিয়ে অপসারণ করছি। পাশাপাশি যেসব ঠিকাদাররা অবৈধভাবে এসব গ্যাস সংযোগ দিচ্ছেন তাদেরকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ও আশপাশের এলাকায় নতুন বহুতল ভবনগুলোসহ অলি-গলিতে কয়েক হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ থাকার কথা স্বীকার করে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির উপ-মহাব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ন্ত্রণে আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পাশাপাশি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের জন্য প্রতি সপ্তাহেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। যদি এ ব্যাপারে কেউ নির্দিষ্ট করে অভিযোগ দেন তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।আজিজুল আলম সঞ্চয়/এমজেড/এমএস