রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নে কাজী মোতাহার ও আমানত আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবনের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। দিন দিন কমছে শিক্ষার্থী সংখ্যা। বিদ্যালয়টির ভবন সংকটের কারণে পরিত্যাক্ত ভবনে চলছে অফিস কার্যক্রম এবং এক প্রকার বাধ্য হয়েই শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া হচ্ছে টিনসেড ঘরে। তবে সামন্য বৃষ্টিতেই সেখানেও পানি ঢুকে পাঠদানের অনুপযোগী হয়ে ওঠে।
বিদ্যালয় সুত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে স্থাপিত এ বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হয়। বর্তমানে ৫ জন শিক্ষক দ্বারা বিদ্যালয়টি পরিচালিত হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫০ জন। বিদ্যালয়টিতে ১৯৯৪-৯৫ সালে তৈরি হয় একটি একতলা ভবন যা ২০১৪ সালে পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য একটি টিনের ছাপড়া ও একটি চারচালের টিনের ঘর রয়েছে। কিন্তু সামন্য বৃষ্টিতে সেই টিনের ঘর গুলো পাঠদানের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ভেঙে পড়ার ভয়ে পরিত্যাক্ত ভবনেও যেতে চায় না শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নাফ মুন্নু জানান, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হয়। পরে বিদ্যালয় ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করার কারণে দিন দিন ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ও লেখা পড়ার মান কমতে শুরু করেছে। এসব সমস্যার কথা অনেকবার সংশ্লিষ্ট দফতরে জানানো হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছুই হয়নি।
একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, ভেঙে পড়ার ভয়ে তারা পরিত্যাক্ত ভবনে যায় না। পড়ার জন্য টিনের তৈরি ছাপড়া করে দিয়েছেন স্যাররা যার তিন পাশেই খোলা এবং সামান্য বৃষ্টিতেই পানি ঢুকে বই-খাতা ভিজে যায়। নতুন ভবন তৈরি করে দেয়ার দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, কাজী মোতাহার হোসেন বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। বিদ্যালয়টির অবস্থা জরাজীর্ণ। তবে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে। নতুন ভবন তৈরি করা হলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।
রুবেলুর রহমান/এফএ/আইআই