সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে সরকার যেখানে গ্রামে গ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিক খুলেছে, সেখানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেই কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলাবাসী। চিকিৎসক সংকট, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত ৫০ শয্যা বিশিষ্ট নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি কোনোরকমে জোড়াতালি দিয়ে চলছে। কেবলমাত্র তিনজন চিকিৎসক দিয়ে অনেকটা লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে সরকারি এ হাসপাতালটিকে! এর ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় এখন আর খুব বেশি রোগীও আসেন না।
এ ব্যাপারে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পা কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার হোসেন বলছেন, একজন চিকিৎসককেই সব রোগের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে রোগীদের। কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হলে হাসপাতালে সব বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহ করতে হবে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দফতরে বিষয়টি জানিয়েছি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাওর বেষ্টিত নাসিরনগর উপজেলায় তিন লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস। বিশাল এ জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্য সেবায় নিয়েজিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বর্তমানে জরুরি ও আন্তঃবিভাগ থেকে নামমাত্র সেবা দিচ্ছে সাধারণ রোগীদের। প্রতিষ্ঠার প্রথম দিকে প্যাথলজি, গাইনোকলজি, মেডিসিন, শিশু, চক্ষু ও কার্ডিওলজিসহ বেশ কিছু বিভাগ চালু থাকলেও বর্তমানে বিশেষজ্ঞ কোনো চিকিৎসকই নেই এই হাসপাতালে। হাসপাতালটিতে ২১ জন চিকিৎসকের পরিবর্তে কাজ করছেন মাত্র তিনজন চিকিৎসক। ১৭ জন নার্সের বিপরীতে রয়েছেন ১৩ জন।
রোববার সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা, চক্ষু বিভাগ, গাইনোকলজি বিভাগ, মেডিসিন বিভাগ, অস্ত্রোপচার কক্ষ (ওটি) ও এক্স-রে কক্ষটি তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞ সার্জারি ও অ্যানেসথেশিয়া বিভাগের চিকিৎসক না থাকায় কোনো ধরনের অস্ত্রোপচারই করা হয় না হাসপাতালে। প্রতিষ্ঠার পর এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়টি সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে ও ইসিজি মেশিনও বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। অবশ্য এক্স-রে টেকনিশিয়ানের পদটিও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এর ফলে রোগ নির্ণয়ের জন্য এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা বেসরকারি ক্লিনিক থেকে করাতে হচ্ছে রোগীদের। এতে করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।
অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে আসা উপজেলার দাঁতমণ্ডল গ্রামের বাসিন্দা সবুজ মিয়া বলেন, হাসপাতালে এসে দেখি কোনো গাইনোকলজিস্ট নেই। এখন প্রাইভেট গাইনোকলজিস্ট দেখানোর জন্য প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে হবে। এ হাসপাতালে থাকলে বিনা পয়সায় দেখাতে পারতাম।
উপজেলার আঁতুকোড়া গ্রামের গৃহবধূ আনোয়ারা বেগম বলেন, বুকে কফ সমস্যা নিয়ে কয়েকদিন আগে হাসপাতালে এসেছিলাম। পরে ডাক্তার কফ পরীক্ষা লিখে দিয়ে বলেছেন বাইরে হাসপাতাল থেকে করিয়ে নিতে। কফ পরীক্ষাও যদি বাইরে থেকে করতে হয় তাহলে সরকারি এ হাসপাতালে এসে কী লাভ?
আবদুর রহমান নামে আন্তঃবিভাগে ভর্তি এক রোগীর স্বজন জানান, হাসপাতালের রোগীর বেড, মেঝে ও টয়লেটগুলো খুবই অপরিস্কার। এই পরিবেশে যেকোনো সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়বে। গরিব রোগীদের এখানে সেবা নিতে এসে আরও কষ্ট করতে হয়।
আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/জেআইএম