১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া ভাষণকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে চলতি বছরের ৩০ অক্টোবর। এ স্বীকৃতির প্রায় ১০ মাস আগে ঐতিহাসিক ভাষণকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা ও ছড়িয়ে দেয়ার এক মহৎ উদ্যোগ নিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. কামরুল আহসান তালুকদার।
বিসিএস ২৫তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের এ কর্মকর্তা শুরুতে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেখানে তিনি তার কর্ম দক্ষতার জন্য আজও স্থানীয় মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে আছেন।
সেখান থেকে বদলি নিয়ে ময়মনসিংহের ভালুকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে যোগ দেন তিনি। সেখানে ভালুকা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ৪ শতাধিক কিন্ডার গার্টেনসহ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে প্রতিযোগিতার প্রবর্তন করেন। শুরু করেন ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ উৎসব’। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মুখে উচ্চারিত হতে থাকে বঙ্গবন্ধুর সেই অমোঘ আহ্বান।
জানা গেছে, চলতি বছরের ৭ মার্চ ভালুকা ডিগ্রি কলেজ মাঠে ৩ গ্রুপে ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ উৎসব’-এর চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ২৫ জানুয়ারি ৭ মার্চকে ‘জাতীয় ভাষণ দিবস’ ঘোষণার অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে একটি চিঠি পাঠান কামরুল আহসান তালুকদার।
চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশে অসংখ্য দিবস পালিত হয়। ৭ মার্চের ভাষণ জাতীয়ভাবে প্রচারিত এবং সরকারিভাবে পালিতও হয় না। শুধু দলীয়ভাবে পালন করা হয়। ফলে বাঙালি জাতির মুক্তির মন্ত্র এ ভাষণের দিনটিকে জাতীয়ভাবে পালন করা জরুরি। রাষ্ট্রিয় পৃষ্ঠপোষকতায় ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার, ৭ মার্চকে ‘জাতীয় ভাষণ দিবস’ এবং ভাষণটিকে ‘জাতীয় ভাষণ’ ঘোষণা করা হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন ত্বরান্বিত হবে। তবে জেলা প্রশাসন বিষয়টিকে আমলে না নেয়ায় তা আর আলোক মুখ দেখেনি।
কামরুল আহসান তালুকদার বলেন, ৭ মার্চের ভাষণের মধ্যে জাতির মুক্তির চেতনা রয়েছে। বাঙালি সেই চেতনা বুকে ধারণ করে আছে, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ অনেকেই বলতে পারে না। তাই আমি চেয়েছি ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে জাতির পিতার ভাষণ উচ্চারণ হোক।
ভালুকা থেকে এ বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছড়িয়ে যাক সারা দেশে, যুগ-যুগান্তরে। এ উদ্যোগ নেয়ার পর ভালুকার সর্বস্তরের মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা এগিয়ে আসেন। শিক্ষক-অভিভাবকের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়। ঘরে ঘরে রিহার্সেল হয়। বিচারকমণ্ডলী ভাষণ শুনে সেরা নির্বাচিত করেন। এখন ৭ মার্চকে জাতীয়করণ করা হলে সারা দেশে নতুন প্রজন্মের মধ্যে উদ্দীপনা শুরু হবে বলে বিশ্বাস করি। তিনি আশা করেন একদিন দেশেও মিলবে ৭ই মার্চের ভাষণ ও দিনটির জাতীয় স্বীকৃতি।
মাতৃভূমিকে মুক্ত করতে ১৯৭১ সালে জীবনবাজি রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ যুদ্ধের নেপথ্য প্রেরণা জুগিয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া ৭ মার্চের ভাষণ। এ বছরের ৩০ অক্টোবর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ‘মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো।
আব্দুর রহমান আরমান/এমএএস/আরআইপি