বাগেরহাটের শরণখোলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারে বত্রিশ কোটি টাকায় সদ্য সংস্কার হওয়া বেড়িবাঁধের একটি অংশ বলেশ্বর নদীতে ধসে পড়েছে। তাফালবাড়ি লঞ্চঘাট অংশের ২শ মিটার অংশ বৃহস্পতিবার রাতে ধসে পড়ে। বেড়িবাঁধটির সংস্কার কাজ নিম্নমানের হওয়ায় বলেশ্বর নদীর প্রবল ঢেউ আর অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে এ ঘটনা ঘটে।এছাড়া ফাঁটল দেখা দিয়েছে আরো বিভিন্ন অংশে। বাঁধ ধসে তাফালবাড়ি লঞ্চঘাট সংলগ্ন স্লুইস গেট এলাকা দিয়ে পানি ঢুকে কমপক্ষে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হবার পাশাপাশি আমনের বীজতলা, ঘরবাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাটের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌলশী মো. মাঈনউদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বরের সুপার সাইক্লোন সিডরের আঘাতে বলেশ্বর নদীর কোল ঘেষে নির্মিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের বেড়িবাঁধের ব্যাপক ক্ষতি হয়। গত অর্থ বছরে ৭.১০ কিলোমিটার বাঁধে সংস্কার ও ব্লক স্থাপনে বিশ্ব ব্যাংকের ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মের্সাস এসএস/এসি জয়েন্টভেন্সার ওই কাজটি করে। বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে মাত্র ২ মাস আগে যেনতেনভাবে ঠিকাদার নিম্নমানের কাজটি শেষ করে। বেড়িবাঁধটি সংস্কারের পরপরই বিভিন্ন অংশ ধসে পড়তে শুরু করে। এখন জোয়ারের পানিতে যেকোনো সময় প্লাবিত হবার আশঙ্কায় রয়েছে সাউথখালী ইউনিয়নের বগী, তেরাবেকা, গাবতলা, চালিতাবুনিয়া, রায়েন্দা ইউনিয়নের ঝিলবুনিয়া, রাজেশ্বর, লাকুড়তলাসহ কমপক্ষে ১০টি গ্রামে জনসাধারণ।বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌলশী মো. মাঈনউদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ধসে পড়া এলাকাগুলোর বাঁধ ভেঙে যাতে পানি প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য শনিবার সকাল থেকে ‘বাধঁ রক্ষার’ কাজ শুরু হবে। তবে তিনি ঠিকাদারের নিম্নমানের কাজ সর্ম্পকে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। শওকত আলী বাবু/এমজেড/পিআর