দেশজুড়ে

ঝিনাইদহে তিন দিনব্যাপী লোক সাংস্কৃতিক উৎসব

‘আমার আমিকে চিরদিন এই বাংলায় খুঁজে পাই’ স্লোগান নিয়ে ঝিনাইদহে শুরু হয়েছে লোক সাংস্কৃতিক উৎসব। পালা গান, বাউল গান পরিবেশনসহ তুলে ধরা হচ্ছে লোক সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক।

এতে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ ও কোলকাতার শিল্পীরা। গ্রামীণ ঐতিহ্য লোক-গান, পালা গান দেখতে অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হয় হাজারো দর্শক। বাঙালির হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার দাবি দর্শকদের।

গণশিল্পী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে চলছে তিন দিনব্যাপী লোক সাংস্কৃতিক উৎসব। বাংলাদেশ গণ-শিল্পী সংস্থা জেলা শাখার আয়োজনে শুরু হয়েছে এ উৎসব।

শনিবার বিকেলে উৎসবের উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপাচার্য। উদ্বোধন শেষে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে পালাগান, লোক সংগীত ও বাউল গান।

প্রথমে পরিবেশন করা হয় অষ্টক পালা-নৌকা বিলাস। হিন্দু ধর্মীয় পুরনো কাহিনীর একটি দিক অষ্টক পালা। এক সময় যমুনা নদী পার হওয়ার সময় কৃষ্ণ-রাধাকে নিয়ে লিলা করেছিল সেই কাহিনী পরিচিত অষ্টক পালা বা নৌকা বিলাস নামে। আর সে কাহিনী এখানে তুলে ধরা হয়। এরপর লোক সংগীত পরিবেশিত হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শত শত দর্শক উপভোগ করছেন এই উৎসব।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত শিল্পী ও কোলকাতা রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের প্রধান কঙ্কনা মিত্র জানান, এপার বাংলা-ওপার বাংলা দু’টা দেশ হলেও আমরা আলাদা নই, আমরা এক আমাদের সাংস্কৃতিও এক। সারাবিশ্বে যে হিংসা বিদ্বেষ সেখানে লোক সংস্কৃতির মাধ্যমেই প্রমাণ করতে পারি আমরা এক।

গণশিল্পী সংস্থা ঝিনাইদহ শাখার সভাপতি আব্দুস সালাম জানান, লোক সংস্কৃতিই হচ্ছে মূল। তাই নিজেকে জানতে হলে এর বিকল্প নেই। লোক সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করেই অনেক কিছুর উদ্ভব হয়েছে। কিন্তু এটাকে বাদ দিয়ে কিছুই না। তাই বাংলার চিরাচরিত ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এমন লোকজ উৎসব প্রতি বছর বার বার আয়োজন করা উচিৎ বলে জানান তিনি।

আহমেদ নাসিম আনসারী/এএম/এসএম