দেশজুড়ে

জেএসসিতে যশোরে বোর্ডে গণিতে ফল বিপর্যয়

এ বছর জুনিয়র মাধ্যমিক পরীক্ষার (জেএসসি) ফলাফলে যশোর বোর্ডে গণিতে ফল বিপর্যয় ঘটেছে। এর প্রভাবে গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ১২ শতাংশ কমে গেছে। কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিও। এবার যশোর বোর্ডে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৪২ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪ হাজার ৬১২। গত বছর এ বোর্ড থেকে ৯৫ দশমিক ৩৫ ভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছিল এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২২ হাজার ৩ জন। অনুত্তীর্ণ ১৬ দশমিক ৫৮ ভাগের মধ্যে প্রায় ১২ ভাগই গণিতে ফেল করেছে। শনিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক ফলাফলে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, চলতি বছর ২ লাখ ৯ হাজার ৫১৫ জন শিক্ষার্থী জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এদের মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ১ হাজার ২৬৫ ও ছাত্রী ১ লাখ ৮ হাজার ২৫০। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৭৬ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৮২ হাজার ৬৯০ ও ছাত্রী ৯২ হাজার ৮৬ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ হাজার ৬১২ জন। পাসের হার ৮৩ দশমিক ৪২।

গত বছর এই বোর্ড থেকে ২ লাখ ১৩ হাজার ৩৪০ জন শিক্ষার্থী জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এদের মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৩ হাজার ১৬৬ ও ছাত্রী ১ লাখ ১০ হাজার ১৭৪। উত্তীর্ণ হয়েছিল ২ লাখ ৩ হাজার ৪২৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৯৭ হাজার ৮৮১ ও ছাত্রী ১ লাখ ৫ হাজার ৫৪৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২২ হাজার ৩ জন। পাসের হার ছিল ৯৫ দশমিক ৩৫।

এবার জেএসসি’র ফলাফল সম্পর্কে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র জানান, এ বছর জেএসসি পরীক্ষার পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি দু’টোই কমেছে। গণিতে অনুত্তীর্ণের হার বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব সার্বিক ফলাফলের ওপরে পড়েছে। গত বছর গণিতে পাসের হার ছিল প্রায় ৯৮ শতাংশ। এবার তা কমে এসেছে ৮৮ শতাংশে। ফলে ফেল করা অধিকাংশ শিক্ষার্থীই অনুত্তীর্ণ হয়েছে গণিতে। এ বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যে পর্যালোচনা করেছি। ফলাফলের এই বিষয়টি আমলে নিয়ে স্কুলগুলোকে গণিত শিক্ষার মানোন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

এদিকে, বোর্ডের ফলাফলে দেখা গেছে, এবার বোর্ডের ২৮১টি স্কুল থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৯৯৯। আর এ বছর ৯টি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। গত দু’বছর এ সংখ্যা শূন্য ছিল। গণিতে ফেল বৃদ্ধির কারণে শতভাগ পাসের হার যেমন এক-তৃতীয়াংশেরও কমে নেমে এসেছে, তেমনি শূন্যভাগ পাসের হারের স্কুলেরও দেখা মিলেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র।

যশোর বোর্ডের ফলাফলের চিত্র উপস্থাপনকালে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সৈয়দ রকিবুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী কামাল হোসেন, মাধ্যমিক সেকশন অফিসার শাহানুল হক প্রমুখ।

মিলন রহমান/এমএএস/আইআই