হকার ইস্যু নিয়ে দুই গ্রুপের গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে হকারদের নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর মেট্রো সিনেমা হলের সামনে বসার অনুমতি দিলেও হকার নেতাকর্মীরা তা মেনে নেয়নি।
এ সময় ‘কেউ বসবে কেউ বসবে না, তা হবে না তা হবে না। বসলে একসঙ্গে বসব, না হয় কেউ বসবে না’ এমন স্লোগানের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দেয়া সিদ্ধন্তকে প্রত্যাখ্যান করেছেন নগরীর হকাররা।
বুধবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হকারদের আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে হকার নেতাকর্মীরা এসব কথা বলে স্লোগান দেন।
এর আগে বুধবার বিকেল ৩টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনের কক্ষে ডেকে নেয় হকারদের। সেখানে তাদের নিয়ে জেলা প্রশাসক মো. রাব্বী মিয়া ও জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক বৈঠক করেন।
তখন প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা হকারদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন এবং কোনো সহিংসতায় না যাওয়ার জন্য আহ্বান করা হয়।
পরে হকারদের জানানো হয়, মেয়র আইভী ও সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সিদ্ধান্তক্রমে শহরের মেট্রো সিনেমা হল চত্বরের সামনে হকাররা বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বসতে পারবে। তবে কোনোভাবেই বঙ্গবন্ধু সড়কে হকার বসা যাবে না।
হকারদের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, হকাররা গুলি খেয়েছে। হামলার শিকার হয়েছে। প্রয়োজনে আরও গুলি খাবে। তারপরও বি.বি রোডসহ সব সড়কে হকাররা বসতে চায়।
মেয়র আইভী আগে থেকে বলে আসছেন, বি.বি রোডে হকারদের বসতে দেবেন না। এই বি.বি রোডে বসার জন্য এতো আন্দোলন করা হচ্ছে। তারপরও যদি ওই সড়কে বসতে দেয়া না হয় তাহলে হকাররা প্রশাসনের ওই সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না।
হকাররা বলেন, হকাররা গরিব মানুষ। তাদের পেটে লাথি কেন মারা হলো। গত ২৭ দিন ধরে হকাররা তাদের দোকান বসাতে না পারায় ছেলে-মেয়েদের জন্য চাল কিনতে পারছেন না। সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করাতে পারছেন না। এমন সময় হকারদের ইচ্ছেদ করা হলো তারা এখন কোনো দিকে যেতে পারছেন না।
এ সময় বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ কমিনিস্ট পার্টি (সিপিপি) জেলা শাখার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, হকার নেতা আসাদুল ইসলাম আসাদ ও রহিম মুন্সি প্রমুখ।
মো: শাহাদাত হোসেন/এএম/জেআইএম