তথ্যপ্রযুক্তি

পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু করলো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘জ্যাকটর’

বাংলাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম শুরু করলো ভিন্নধর্মী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘জ্যাকটর’। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, দক্ষিণ এশিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত বিস্তারের বিপরীতে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা সুরক্ষার কাঠামো দীর্ঘদিন ধরেই পিছিয়ে আছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় ‘জ্যাকটর’-এর বেটা সংস্করণ পরীক্ষামূলক কার্যক্রম একটি ভিন্নধর্মী ডিজিটাল মডেলের সূচনা করছে। সফটা টেকনোলজিস লিমিটেডের তৈরি জ্যাকটর এরই মধ্যে ভারত ও নেপালে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ করেছে। অ্যাপটি বর্তমানে গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপেল অ্যাপ স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় চলমান বেটা সংস্করণকে কেবল বাজার সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে না; বরং এটি একটি বাস্তবভিত্তিক মূল্যায়নের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি ব্যবহারকারীর ডিজিটাল ঝুঁকি কমাতে সক্ষম হয় কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।

জ্যাকটরের প্রধান স্থপতি সুনীল কুমার সিং ফিনল্যান্ডে ডিজিটাল গভর্নেন্স ও ট্রাস্ট সিস্টেম নিয়ে দীর্ঘ এক দশক গবেষণা করেছেন। তার সেই অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটেছে এ প্ল্যাটফর্মে। জ্যাকটরের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর ‘জিরো-নলেজ সার্ভার মডেল’। ফলে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য স্বয়ং সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটরদের কাছেও দৃশ্যমান হবে না।

আরও পড়ুনসন্তান অনলাইন গেমে আসক্ত হলে যা করবেন টাকা দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার, প্রিমিয়াম ভার্সনে কী সুবিধা? 

এ ছাড়া এতে আছে মাল্টি-লেয়ার এনক্রিপশন এবং নো-ইউআরএল মিডিয়া ফ্রেমওয়ার্ক। এর মাধ্যমে কোনো ছবি বা ভিডিও সরাসরি ডাউনলোড বা বাইরের কোনো মাধ্যমে পুনর্বণ্টন করা অসম্ভব। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বিশেষ করে নারীদের অনলাইন হয়রানি এবং অনুমতিহীন ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার মতো ঝুঁকি কমাতে এ প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর হবে।

জ্যাকটরের আরেকটি বিশেষত্ব হলো এর অর্থায়ন পদ্ধতি। সুনীল সিং নিশ্চিত করেছেন, কোনো ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বা সরকারি অনুদান ছাড়াই প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করা হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবসায়িক চাপ বা বিনিয়োগকারীদের মুনাফার স্বার্থে অনেক সময় প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীর তথ্য বিক্রি বা নজরদারি করতে বাধ্য হয়। জ্যাকটর এই বলয় থেকে মুক্ত থেকে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষাকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে।

বাংলাদেশে প্ল্যাটফর্মটির কার্যক্রম কেবল ব্যবহারকারী বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি তরুণ প্রজন্মের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন সুযোগ তৈরি করছে। এনক্রিপশন, লোকালাইজেশন এবং ডিজিটাল সুরক্ষার মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল তৈরিতে এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

এসইউ