দেশজুড়ে

প্রয়াত এমপির সমালোচনা করে নিজেই নিন্দার মুখে

সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে খুশি করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট লুৎফুল হাই সাচ্চুর সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়ে নিজেই নিন্দিত হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার। তার দেয়া আপত্তিকর বক্তব্যে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় বইছে সর্বত্র।

শুধুমাত্র একজন আমলার সন্তুষ্টির জন্য নিজ দলের প্রয়াত নেতাকে নিয়ে দেয়া আপত্তিকর বক্তব্যে বেকায়দায় পড়েছেন জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

আল মামুন সরকারের এ বক্তব্যকে ‘হুশজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়ে প্রয়াত সংসদ সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফুল হাই সাচ্চুর ছোট ভাই আল-মামুন মনোয়ারুল হাই নিজের ফেসবুকে পেইজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। দীর্ঘ ওই স্ট্যাটাসে একজন আমলাকে খুশি করে তার কাছ থেকে আল মামুন সরকার কোনো ফায়দা লুটতে চানও বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল রোববার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার (ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাবেক জেলা প্রশাসক) আবদুল মান্নানের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সফর উপলক্ষে জেলা প্রশাসন এক সুধি সমাবেশের আয়োজন করে। ওই সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে আবদুল মান্নানের প্রশংসা করতে গিয়ে প্রয়াত সংসদ সদস্য লুৎফুল হাই সাচ্চুকে কটাক্ষ করেন।

সেখানে উপস্থিত অনেকেই জানান, আল মামুন সরকার তার বক্তব্যে লুৎফুল হাই সাচ্চু পরোক্ষভাবে জেলার আশুগঞ্জ উপজেলায় মেঘনা নদী দখল করেছিলেন বলে মন্তব্য করেন। জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান সেটি দখলমুক্ত করেন।এছাড়া তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান জেলার বিজয়নগর উপজেলার স্থান নির্ধারণ নিয়েও লুৎফুল হাই সাচ্চুর মতামতকে প্রাধান্য দেননি বলে বক্তব্য রাখেন আল মামুন সরকার।

লুৎফুল হাই সাচ্চুর জীবদ্দশায় তার বাড়িতে আবদুল মান্নান যাননি বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন আল মামুন সরকার। তার মৃত্যুর পরই আবদুল মান্নান বাড়িতে যান।

লুৎফুল হাই সাচ্চুর ছোট ভাই আল-মামুন মনোয়ারুল হাই সাংবাদিকদের বলেন, লুৎফুল হাই সাচ্চু নিশ্চিত মন্ত্রী হবেন জেনেই ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সফরের দিন একটি জাতীয় দৈনিকে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষটি পরিকল্পিতভাবে মেঘনা নদী দখলের একটি মিথ্যা প্রতিবেদশ প্রকাশ করে। লুৎফুল হাই সাচ্চু চেয়েছিলেন বিজয়নগর উপজেলার সদর উপজেলার মধ্যবর্তী চম্পকনগরে করার জন্য। কিন্তু ওই আমলা (আবদুল মান্নান) ঘনবসতিপূর্ণ চম্পকনগরকে ‘জনশূন্য’ বলে মিথ্যা প্রতিবেদন দেন।

এভাবেই সংসদ সদস্য হিসেবে লুৎফুল হাই সাচ্চুর প্রতিটি উন্নয়ন পদক্ষেপ বাধাগ্রস্ত করা হয়। তাদের এসব মানসিক যন্ত্রণায় লুৎফুল হাই সাচ্চু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, সাচ্চু ভাই যখন এমপি ছিলেন তখন আমরা তার কাছ থেকে দূরে-দূরেই থাকতাম। তখন আল মামুন সরকার ছিল সাচ্চু ভাইয়ের সঙ্গে। সাচ্চু ভাইয়ের মতো একজন লোকের বিরুদ্ধে এভাবে বক্তব্য দেয়াটা আল মামুন সরকারের মতো একজন বাজে লোকের পক্ষেই সম্ভব। সে বাজে লোক বলেই সাচ্চু ভাইয়ের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছে।

তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার সাংবাদিকদের বলেন, আমি কারো বিরুদ্ধে বলিনি। হয়তো ওনার (লুৎফুল হাই সাচ্চু) বিরুদ্ধে গেছে। ওনার আমলে আওয়ামী লীগ তিন ভাগ ছিল। এ কারণে তিনি যে কাজই করতে গেছেন বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে। সেই সময় আবদুল মান্নান সাহস নিয়ে পদক্ষেপ নিয়েছেন। আমি মান্নান সাহেবের সাহসের বর্নণা দিয়েছি।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের নির্বাচনে লুৎফুল হাই সাচ্চু চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার একবছর পরই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন আবদুল মান্নান। ২০১০ সালে লুৎফুল হাই সাচ্চু মারা যান। লুৎফুল হাই সাচ্চুর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন আবদুল মান্নান।

আজিজুল সঞ্চয়/এএম/আরআইপি