দেশজুড়ে

টিকিট আছে টিকিট নেই

বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট-আখাউড়া সেকশনে বার বার যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিচ্ছে আন্তঃনগর রেলগুলোতে। এতে আতঙ্কিত হচ্ছেন যাত্রীরা। প্রশ্ন উঠেছে এই সেকশনে চলাচলকারী রেলের মান নিয়ে। রেলের এসব দুর্ঘটনা, যাত্রীসেবার মান, যাত্রীদের ভোগান্তি ও বিভিন্ন সংকট নিয়ে পাঁচ পর্বের প্রতিবেদন করেছেন জাগো নিউজের মৌলভীবাজার প্রতিনিধি। আজ থাকছে তার প্রথম পর্ব।

সিলেট-আখাউড়া সেকশনে আন্তঃনগর ট্রেনের প্রধান সমস্যাই হচ্ছে এ টিকিট সংকট।। আখাউড়া-সিলেট রেলপথে পারাবত, জয়ন্তীকা, পাহাড়ীকা, উদয়ন, উপবন ও কালনী এক্সপ্রেস নামের ৬টি আন্তঃনগর ট্রেন প্রতিদিন গড়ে ১২ বার চলাচল করে। এসব যাত্রায় প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ হাজার যাত্রী সিলেট-ঢাকা এবং সিলেট-চট্টগ্রাম পথে ভ্রমণ করেন। এমন অবস্থার বিপরীতে স্টেশন ভিত্তিক রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজসে টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। আর এই চক্রের কাছেই জিম্মি হয়ে পড়েছেন যাত্রীরা।

মৌলভীবাজারের মাইজগাঁও, কুলাউড়া, শমশেরনগর, ভানুগাছ, শ্রীমঙ্গল স্টেশনগুলোতেও একই অবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে। সিলেট-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে দিনের বেলা আন্তঃনগর পাহাড়িকা, কালনী, জয়ন্তিকা, পারাবত এক্সপ্রেস এবং রাতে উদয়ন ও উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন নিয়মিত চলাচল করছে। ফলে প্রতিদিন এই সেকশনের যাত্রীদের ব্যাপক চাহিদার কারণে সিন্ডিকেট চক্র ট্রেনের টিকিটের কালোবাজারি ব্যবসাও চালিয়ে যাচ্ছেন।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট দশ দিন আগে অনলাইনে বিক্রির সুযোগে অসাধু কালোবাজারি চক্র রেলওয়ে স্টেশনের কতিপয় মাস্টারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আঁতাত করে গোপন বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। দশ দিন আগের টিকিট বিক্রির জন্য কম্পিউটার ওপেন করার ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই আগাম টিকিট কেটে নেয়া হয়। পরে ওই টিকিটই দ্বিগুন মূল্যে বিক্রি করা হয়।

রেলওয়ের এক শ্রেণির কর্মকর্তা, কর্মচারিদের সহায়তায় একটি সিন্ডিকেট চক্র জমজমাট এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পরে যাত্রীরা কাউন্টারে এসে চার, পাঁচ দিন আগেও কোনো টিকেট পান না। কম্পিউটারে দেখানো হয় টিকিট নেই। তবে কাউন্টারের আশপাশে অবস্থান নেয়া কালোবাজারিদের এজেন্ট স্টেশনের ভেতরে বা নিজ নিজ বলয়ে টিকিট বিক্রি করে দ্বীগুণ দামে। সরেজমিন শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, কাউন্টারে গিয়ে ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামে যাওয়ার আসন নেই। কিন্তু কাউন্টার থেকে বের হওয়ার পরেই একটি চক্র অন্য স্টেশন থেকে সংগ্রহ করে দেয়ার কথা বলে যাত্রীদের কাছে দ্বিগুন মূল্যে কেটে রাখা টিকিট বিক্রি করছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার সাখাওয়াত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, প্রয়োজনের তুলতায় আসন সংখ্যা কম থাকায় টিকিটের সংকট আছে। আন্তঃনগর রেলের টিকিট আমাদেরকে দেয়া হয় ২৮৮টি অথচ টিকিট বিক্রি করতে হয় ১০০০ থেকে ১২০০টি।

কালোবাজারে টিকেট প্রাপ্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা এই অভিযোগ করছে তারা না কিনলেই কালোবাজারিরা টিকিট রাখবে না। কে কার জন্য টিকিট কিনে নিচ্ছে তা আমরা বুঝব কী করে?

কুলাউড়া রেলস্টেশনের মাস্টার মফিজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, কুলাউড়ায় ২৬৫টি আসন আছে কিন্তু প্রতিদিন চাহিদা হাজারের উপরে। পারাবতের মতো কালনীতে যদি বগির সংখ্যা ১৪-১৫ তে নেয়া যায় বা নতুন ট্রেন যুক্ত করা যায় তাহলে টিকিট সংকট কাটবে।

এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক জাগো নিউজকে বলেন, রেলের উন্নয়নের জন্য সরকার কাজ করছে। নতুন নতুন কোচ আসার প্রক্রিয়ায় আছে। নতুন কোচ আসলে স্বাভাবিক ভাবে তা যুক্ত হবে।

এফএ/এমএস