দেশজুড়ে

বেঞ্চ ও শ্রেণিকক্ষ সংকট, ভোগান্তিতে কোমল শিক্ষার্থীরা

বেঞ্চ ও শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে বিপাকে পড়েছে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালি ইউনিয়নের সানকিভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শ্রেণিকক্ষে গাদাগাদি করে বসায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের।

এ ছাড়া বিদ্যালয়ের মাঠ নিচু থাকায় ও শিক্ষক সংকটের কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। যে সময়টাতে মাঠে পানি জমে থাকে সে সময় এ্যাসেম্বলি করানো হয়না এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৯ সালে ৩৩ শতাংশ জমিতে স্থাপিত সানকিভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ করা হয় ২০১৩ সালে। এখানে শিক্ষক চারজন আর শিক্ষার্থী রয়েছে ২৭৬ জন। এরমধ্যে গত জানুয়ারি মাসে দেড় বছরের জন্য একজন শিক্ষক গেছেন গাইবান্ধা পিটিআইতে ডিপিএড প্রশিক্ষণে।

বিদ্যালয়টিতে শিশু শ্রেণিতে ৩০, প্রথমে ৫৪, দ্বিতীয়তে ৬০, তৃতীয়তে ৫৯, চতুর্থতে ৪৩ ও পঞ্চম শ্রেণিতে রয়েছে ৩০ জন শিক্ষার্থী। প্রতিদিন উপস্থিতির হার শতভাগ। এ ছাড়া বিদ্যালয়টিতে রয়েছে বেঞ্চ, শ্রেণিকক্ষ ও আসবাবপত্রের সংকট।

শিক্ষকরা জানান, একটি শ্রেণিকক্ষে প্রতি ৩৭ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করাবেন একজন শিক্ষক। সেই হিসাবে আরও দুইটি শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক থাকার কথা আরও ৫জন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের সামনের মাঠে এ্যাসেম্বলি করছিল। এরপর তারা শ্রেণিকক্ষে ঢুকলে দেখা যায় গাদাগাদি করে বসেছে। ২ জন বসার প্রতি বেঞ্চে বসেছে ৩ থেকে ৪ জন করে। রয়েছে বৈদ্যুতিক পাখার সংকট। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের সামনের মাঠটিও অনেক নিচু। বর্ষাকালে মাঠে দুই মাসের বেশি সময় পানি জমে থাকে বলে জানায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

বিদ্যালয়টির তৃতীয় শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বেঞ্চ সংকটের কারণে ২ জনের বেঞ্চে ৩ থেকে ৪ জন করে গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে। এতে করে লেখার সময় সমস্যায় পড়তে হয়। বেশি করে সমস্যায় পড়তে হয় গরমকালে। এসময় পড়ায় মনোযোগ থাকে না। এছাড়া আমাদের খেলার মাঠটিও অনেক নিচু। ফলে বছরের দুই-তিন মাস আমরা খেলাধুলা ও এ্যাসেম্বলি করতে পারি না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, ছেলে-মেয়েরা কষ্ট করে একই বেঞ্চে তিন-চারজন করে বসে লেখাপড়া করছে। এতে করে তাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তারপরও নতুন বেঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে না। বিদ্যালয়টির সামনে মাঠটিও বর্ষকালে দুই-তিন মাস পানি জমে থাকে, কিন্তু মাঠ ভরাট করতে নেয়া হচ্ছে না কোনো উদ্যোগ।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে বেঞ্চ ও শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। শিক্ষক সংকটের কারণে আমাদের তিন জনের উপর চাপ বেড়ে গেছে। জরুরি কোনো কাজ থাকলেও সব সময় বাইরে যেতে পারি না। যদিও বা যেতে হয় সেই সময় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হয়। পড়াশোনার মান ঠিক রাখতে জরুরিভাবে বেঞ্চ, শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, খেলার মাঠ ভরাট ও শিক্ষক সংকট নিরসন করতে হবে।

এসব বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আজিজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, এ ধরনের সংকট গোটা উপজেলায় আছে। কিছু কিছু সমাধান হচ্ছে। পিডিবি-৪ প্রকল্পে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অনেক কিছু ধরানো আছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে কাজ শুরু করা হবে। এসব সমস্যার সমাধান হবে। একটু সময় লাগবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী এপ্রিল মাস থেকে শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়গুলোতে ন্যাশনাল সার্ভিসের লোক যাবে। মাঠ ভরাট করার বিষয়টি বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটিকে নিজ উদ্যোগে দায়িত্ব নিয়ে করতে হবে।

রওশন আলম পাপুল/এমএএস/আরআইপি