দেশজুড়ে

স্বাধীনতার মাসে স্বগৌরবে দাঁড়িয়েছে ‘রক্তলাল ৭১’

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের খারঘর গ্রামে গণহত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল পাকহানাদার বাহিনী। ৭১’র ১০ অক্টোবর খারঘর গ্রামে ঢুকে নির্বিচারে ৪৩ জনকে হত্যা করেছিল তারা। পরে নিহতদের একসঙ্গে খারঘর গ্রামেই গণকবর দেয়া হয়।

দেশের বিভিন্ন স্থানের গণকবরগুলোর মতোই খারঘর গণকবরটিও ছিল অরক্ষিত। অযত্ন আর অবহেলার কারণে অস্তিত্ব হারাতে বসেছিল মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বয়ে বেড়ানো গণকবরটি। অবশেষে স্বাধীনতা অর্জনের ৪৬ বছর পর সংরক্ষণ করা হলো খারঘর গণকবর।

গণকবরকে ঘিরে বানানো হয়েছে ‘খারঘর গণকবর স্মৃতিসৌধ ৭১’। স্মৃতিসৌধে মার্বেল পাথরে খোদায় করে লেখা হয়েছে ৪৩ জন শহীদের নাম। আর সৌধটির চূড়ায় বসানো হয়েছে ‘রক্তলাল ৭১’। স্বাধীনতার মাসে ‘রক্তলাল ৭১’ যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে স্বগৌরবে। দূর থেকে চোখে পড়া ‘রক্তলাল ৭১’ জানিয়ে দিচ্ছে মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদারদের গণহত্যা আর রক্তে কেনা স্বাধীনতার কথা।

পাগলী নদীর তীরবর্তী গ্রাম খারঘরের সঙ্গে অন্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে পাক বাহিনীর আক্রমণের ভয় ছিল কম। এজন্য অনেক মুক্তিযোদ্ধা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখান থেকে কয়েকটি অপারেশনও পরিচালনা করেন মুক্তিকামীরা। তবে নদী পথে জাহাজে করে এসে ১০ অক্টোবর বর্বরোচিত হামলা চালায় হানাদাররা। সেদিন ৪৩ জনকে হত্যা করে তারা।

স্বাধীনতার পরই গণকবরটি সংরক্ষণের জন্য দাবি ওঠে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে। পরবর্তীতে এ দাবি হয়ে ওঠে সবার। তবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়ায় গণকবরটি আর সংরক্ষণ হয়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান গণকবরটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদ ও জেলা পুলিশের সম্মিলিত অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে ‘খারঘর গণকবর স্মৃতিসৌধ ৭১’। দর্শনার্থীদের জন্য লাইটিংয়ের মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে সৌধটি। বৃহস্পতিবার উদ্বোধনের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মক্ত করে দেয়া হয় স্মৃতিসৌধটি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমান বাদল সৌধটি উদ্বোধন করেন। এসময় পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

স্মৃতিসৌধটি একসময় দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠবে উল্লে­খ করে জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, এ স্মৃতি সৌধ নির্মাণের মাধ্যমে গণকবরটি সংরক্ষণের পাশাপাশি আমরা সকল শহীদ ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সম্মান জানিয়েছি। পাগলী নদীর তীরবর্তী এ সৌধটি একসময় পর্যটকদেরকেও আকৃষ্ট করবে। এতে করে খারঘর গণকবরের কথা জানবে সারা বিশ্ববাসী।

আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/এমএস