দেশজুড়ে

শুরু হয়েছিল, শেষ হয়নি

পটুয়াখালী জেলা শহরের সঙ্গে তিন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ সহজ করতে ২০১২ সালে লোহালিয়া নদীর উপর এলজিইডি বিভাগ একটি ব্রিজ নির্মাণ শুরু করলেও দীর্ঘদিন যাবৎ এর কাজ বন্ধ রয়েছে। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্রিজের নির্মাণ কাজে আপত্তি প্রদান করলে এই জটিলতার সৃষ্টি হয়। তবে জনদুভোর্গ লাঘবে দ্রুত ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু করার দাবি জেলাবাসীর। জানা গেছে, ২০১২ সালে ৪৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে লোহালিয়া নদীর উপর একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)। ব্রিজের ৫৪ শতাংশ কাজ চলমান থাকা অবস্থায় ২০১৪ সালে পায়রা সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্রিজ নির্মাণ কাজে আপত্তি জানায়। এর প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ১ অক্টোবর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে ব্রিজের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরপর ব্রিজ নির্মাণে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে নদীর দু’পাড়ের মানুষকে খেয়া পারাপার করতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

লোহালিয়া খেয়াঘাটে অপেক্ষমান বাউফল দাশপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী নুরুল আমিন বলেন, মালামাল নিয়ে নৌকায় পার হব, ওই পারে আবার পরিবহন পরিবর্তন করতে হবে। সময়, অর্থ ও পরিশ্রম সব যায়। ব্রিজটি নির্মিত হলে দোকানের মালামাল সহজে পরিবহন করতে পারতাম। কমলাপুর ইউনিয়নের ভুরিয়া গ্রামের ফাতেমা আক্তার জানান, ভোটের সময় সবাই ভোট নিতে আশে ভালো ভালো কথা কয়। কিন্ত ভোট কেনা শেষ হয়া গেলে কেউ আর খোঁজ রাখে না। আমাদের দাবি দ্রুত সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হক।

পটুয়াখালী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. তারিকুজ্জামান মনি বলেন, ব্রিজটি নির্মিত হলে এই অঞ্চলের কৃষকরা যেমন ফসলের ন্যায্যমূল্য পাবে তেমনি এই এলাকার আর্থ সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পটুয়াখালী এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মো. জামাল উদ্দিন বলেন, হরিজেন্টাল ক্লিয়ারেন্স ৭০ মিটার এবং ভার্টিকাল ক্লিয়ারেন্স ১৩.৫০ মিটার রেখে পায়রা সমুদ্র বন্দর কৃর্তপক্ষের অনাপত্তি পত্র পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ব্রিজের দৈঘ্য হবে ৫৪৫ মিটার। এছাড়া পূর্বের অবকাঠামোর উপর এটি নির্মিত হবে।

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এফএ/এমএস